দেশের পাঁচ জেলা শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে ৭ সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শহরগুলো হলো- বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে এসব শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ৩ মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত এ বিষয়ে চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন। রুলে পাঁচ জেলা শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ
ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরগুলো রক্ষায় কার্যকর নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা লঙ্ঘন করে যারা পুকুরের শ্রেণি বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন কিংবা ভরাট করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ৫ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) নিজ নিজ জেলায় সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটি গঠন করতে হবে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটিগুলো গঠন করা হবে। রেকর্ডভুক্ত কোনো পুকুর যাতে নতুন করে অবৈধভাবে দখল বা ভরাট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কমিটিগুলোকে। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আরেক নির্দেশনায়, পাঁচ জেলা শহরে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী মোট কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলফনামা আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম ইমামুল মুশফিকুর।
হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে পাঁচ শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুরের তালিকা প্রস্তুত, অবৈধ দখল ও ভরাট প্রতিরোধ এবং পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অগ্রগতি আদালতের নজরদারিতে আসবে।
