স্পোর্টস ডেস্ক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটে চলছে নানা আলোচনা। সিরিজের মাত্র তিন দিন আগে ব্যাটিং কোচের পদ থেকে মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়া, এরপর বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ক্রিকেটার ও কোচদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক, সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তার মতে, বাইরের ঘটনা নয়, দলের প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়া এবং ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মুখে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন সিমন্স। এমন পরিস্থিতি কি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে তিনি আশা করেছিলেন, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেন এই ক্যারিবীয় কোচ। সিমন্স বলেন, ‘আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। বিশ্ব ক্রিকেটও আমার চেয়ে বেশি সময় ধরে দেখছেন। একটি ম্যাচের আগে কি এই প্রথম এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে?’
মাঠের বাইরের আলোচনা এড়িয়ে দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে চান সিমন্স। তার মতে, গত তিন-চার দিনের অনুশীলনে দলের সঙ্গে থাকা ক্রিকেটাররা ভালো করেছেন। এবার সাদা বলের ক্রিকেট খেলে আসা সদস্যরা যোগ দেওয়ায় পুরো দলকে একসঙ্গে প্রস্তুত করার পালা।
সিমন্সের ভাষায়, ‘প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বছরের চক্রের শুরুতে আমরা যে সিরিজগুলো খেলেছি, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসল বিষয় হলো, আমরা নিজেদের কাজ কীভাবে করছি এবং সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে অবশ্য কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত থাকায় সব ক্রিকেটারকে একসঙ্গে অনুশীলনে পাননি কোচ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সফরে এসে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই পার্থক্যকে আদর্শ পরিস্থিতি মনে না করলেও সিমন্সের যুক্তি, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খেলার মধ্যেই ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সিরিজের মাঝপথে থাকায় আমরা পুরো দলকে একসঙ্গে পাইনি। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার ওয়ানডে ও টেস্ট, দুই সংস্করণেই খেলেন, তারা ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই এটাকে আদর্শ পরিস্থিতি বলা যায় না। তবে খেলোয়াড়েরা বসে ছিলেন না, তারা ক্রিকেট খেলছিলেন।’
বুধবার থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে এই সিরিজে ভালো ফল চায় বাংলাদেশ। তাই মাঠের বাইরের আলোচনা সরিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিতে চান সিমন্স।
