Published on
:
3 min read
গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তর ‘এনকাউন্টার’। সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পাল পুলিশের উপরে হামলার চেষ্টা করে বলে দাবি পুলিশের। আত্মরক্ষায় গুলি চালায় পুলিশ। মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। দুই পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন বলেও গাইঘাটা থানার পুলিশ দাবি করেছে। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, তাদের ছেলে এমন কাজ করতেই পারে না। তবে ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘শুনেছি মারা গিয়েছে। ভালো হয়েছে মারা গিয়েছে। পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে নাকি গুলি চালিয়েছিল শুনলাম।’
কী ঘটেছিল
গত শনিবারের (২৪ অক্টোবর) ঘটনা। রাতে গাইঘাটা থানা এলাকায় বাড়ির কাছেই জলসা দেখতে গিয়েছিল বছর সতেরোর ওই ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, রাতভর বাড়ি ফেরেনি সে। পরের দিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হয় বিবস্ত্র দেহ। সেই ঘটনায় ২৩ বছরের প্রহ্লাদ পালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এক নজরে
গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ পাল গভীর রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।
ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা ও পালানোর উদ্যোগ নিলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়; এতে দুই পুলিশ কর্মীও আহত হন।
ঘটনার দিন (২৪ অক্টোবর) রাত আড়াইটেয় পায়ে রক্তের দাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল প্রহ্লাদ; পরদিন সকালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের পদক্ষেপকে সঠিক বলে জানিয়েছে ছাত্রীর পরিবার।
অভিযুক্ত প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি, তাঁর দাদা নির্দোষ।
কী দাবি প্রহ্লাদের ভাইয়ের
প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি, সোমবার রাত তখন প্রায় ২টো। ১০-১২ জন পুলিশ তাঁর দাদাকে নিয়ে বাড়িতে আসে। মা-বাবা তখন কাঁদছিলেন। প্রহ্লাদের ভাই বলেন, ‘রাত ২টোয় দাদা আসে, সঙ্গে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘিরে রেখেছিল ওকে। দাদা আমাকে মানু বলে। আমি ঘুমোচ্ছিলাম। দাদা আমাকে ডেকে তুলে জড়িয়ে ধরে। মায়ের কাছ থেকে জল খায়। মা-বাবা খুব কাঁদছিল। এর পরে শুনলাম এই ঘটনা। যেটা হলো, অন্যায় হলো। আমার মনে হয় না, দাদা এটা করতে পারে।’
ঘটনার দিন রাতে কী হয়েছিল?
প্রহ্লাদের ভাই বাড়িতে থাকেন না। হাওড়ার একটি হোটেলে কাজ করেন। সেখানেই থাকেন। শরীর খারাপ বলে ৪-৫ দিন গাইঘাটার বাড়িতে রয়েছেন। প্রহ্লাদের ভাইয়ের কথায়, ‘অন্যান্য দিন দাদা রাতে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘরে চলে আসে। তবে যে দিনের ঘটনা, সে দিন রাত আড়াইটেয় বাড়ি আসে। বাবা দরজা খুলে দিয়েছিল। ওর পায়ে রক্ত দেখে বাবা ভেবেছিল নখ কেটে গিয়েছে। সে দিন রাতে আর কোনও কথা হয়নি। পরের দিন সকালে আমি জিজ্ঞাসা করি দোকানে যাবে কি না। বলল যাবে না। এর পরে পুলিশ এসে ওকে থানায় নিয়ে যায়।’
সেলুন চালাত প্রহ্লাদ
গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ছাত্র ছিল প্রহ্লাদ। সেখান থেকে আর্টস নিয়ে সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তবে বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আর পড়তে পারেনি। বাবার বৈকুণ্ঠপুর বাজারে সেলুন ছিল। সেখানে কাজ করত। তিন মাস আগে নিজের আলাদা সেলুন খোলে।
‘যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে’
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘শুনলাম পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল ছেলেটা, গুলি করেছে। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। পালানোর চেষ্টা করেছে, তাকে তো গুলি করবেই। তবে আমার মেয়েকে হারিয়েছি, ওকে কি আর পাব?’
‘ছেলেটার কোনও অনুশোচনা নেই’
স্থানীয় উপপ্রধানও জানান, ‘পুলিশ আত্মরক্ষার স্বার্থেই গুলি চালিয়েছে। আমরা খুব খুশি প্রশাসনের ভূমিকায়। আমরা তো দেখেছি। ছেলেটার কোনও অনুশোচনা নেই। এমনকী ওর পরিবারের লোকেরও নেই।’ যদিও প্রহ্লাদের ভাই বার বারই দাবি করেন, তাঁর দাদা এ রকম কাজ করতেই পারেন না।
FAQs
প্রশ্ন: গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের কী ভাবে মৃত্যু হলো?
উত্তর: সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পুলিশ অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পালকে (২৩) নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দাবি করেছে, সেখানে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের উপরে হামলার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।
প্রশ্ন: অভিযুক্তের পরিচয় কী?
উত্তর: প্রহ্লাদ পাল গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের প্রাক্তনী এবং বৈকুণ্ঠপুর বাজারে নিজস্ব সেলুন চালাত। তার ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঘটনার রাতে সে সাড়ে ১২টার পরে না এসে রাত আড়াইটেয় বাড়ি ফেরে এবং তার পায়ে রক্তের দাগ ছিল, যা প্রথমে নখ কাটার ক্ষত বলে মনে করেছিল পরিবার।
প্রশ্ন: এই এনকাউন্টার নিয়ে নিহতের পরিবারের কী প্রতিক্রিয়া?
উত্তর: নিহত ছাত্রীর মা ও বাবার প্রতিক্রিয়া, পালানোর চেষ্টা করছিল ওই যুবক। পুলিশ ঠিক কাজই করেছে। স্থানীয় উপপ্রধানও প্রশাসনের ভূমিকায় খুশি হয়ে জানান যে, পুলিশ আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে।
প্রশ্ন: অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পালের পরিবার এনকাউন্টার ও অপরাধের বিষয়ে কী দাবি করেছে?
উত্তর: প্রহ্লাদের ভাই ও পরিবার এনকাউন্টারকে অন্যায় বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, প্রহ্লাদ এমন নৃশংস কাজ করতেই পারে না।