এত দিন মহারাষ্ট্রের ভোটার ছিলেন। এসআইআর পর্বে নাম বাদ গিয়েছে খসড়া তালিকা থেকে। এমন নাম বাদ পড়াদের অনেকের আশঙ্কা, এখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চেয়ে ফর্ম ৬ জমা দিতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে। সোমবার এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছে— নাম বাদ পড়াদের কেউ ফর্ম ৬ জমা দিলে, শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না।
মহারাষ্ট্রে এসআইআর পর্বে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তথা সমাজসৈনিক অরুণ আনন্দগিরির দাবি, ভুল ভাবে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকায়। এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন তিনি। সোমবার প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী অরবিন্দ দাতার। আগামী ৫ নভেম্বর মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিসও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মামলাকারীর দাবি, মহারাষ্ট্রের ৯ কোটি ৭৯ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির’ কারণ দেখিয়ে তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে আরও ১ কোটি ২২ লক্ষের নাম। বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদন জানান তিনি।
আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সময়ে মুম্বই এবং পুণের পরিস্থিতির কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর দাবি, সেখানে আবাসন প্রকল্পের জেরে হাজার হাজার ভোটার ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছেন। আদালতে তিনি বলেন, “পুরনো আবাসিক ভবনগুলি ভেঙে নতুন ফ্ল্যাট তৈরির কাজ চলছে। ফলে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে হয়েছে। এমন হাজার হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। এসআইআরে তাঁদের সকলকে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আদালতে তিনি জানান, মুম্বইয়ে এ ধরনের ৩৫০০টি এবং পুণেতে ১৫০০টি প্রকল্প রয়েছে। এ কথা জানিয়ে আইনজীবী বলেন, “যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এখন ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের নতুন ভোটার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। যাঁরা আগে থেকেই ভোটার ছিলেন, তাঁদের নতুন ভোটার হিসেবে দেখানোটা অপরাধ এবং এর জন্য পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও হতে পারে।”
তবে প্রধান বিচারপতি কান্ত আইনজীবীকে আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। মৌখিক ভাবে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না। কাউকে অভিযুক্ত করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও করা হবে না।”
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে এসআইআর শুরুর আগে ভোটার ছিলেন ৯ কোটি ৭৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৯ জন। খসড়া তালিকা থেকে ২ কোটি ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৮৭ জনের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ২১.১৪ শতাংশ।
