নামজাদা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে কেনা শাড়ি ফেরত দিতে গিয়ে এক লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক তরুণী। ব্যাঙ্কের সঞ্চয় থেকে ৯৯,৫১৮ টাকা হারিয়েছেন তিনি। শাড়ি ফেরত দিতে গিয়ে একটি কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করেন তিনি। তরুণীকে তাঁর ফোনের স্ক্রিন শেয়ার করতে বলা হয়। সেটি করার পরই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলার বাসাইয়াহার গ্রামের বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা নামের তরুণী পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট থেকে ৬৭৪ টাকায় একটি শাড়ি কিনেছিলেন। পণ্যটি পছন্দ না হওয়ায় সেটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাড়ি ফেরত দেওয়ার পর তিনি টাকা ফেরতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাড়িটি ফেরত দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেতে তাঁকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
তার পরও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় তিনি শনিবার অর্ডারের সঙ্গে থাকা একটি নম্বরে যোগোযোগ করেছিলেন। ফোন চলাকালীন আকাঙ্ক্ষাকে তাঁর মোবাইলের স্ক্রিন শেয়ার করতে এবং ওই নম্বরে পাওয়া একটি গিফট কার্ড খুলতে বলা হয়। তিনি রাজি হওয়ায় ফোনের ওপারে থাকা প্রতারকেরা ফোনের তথ্য হাতানোর সুযোগ পেয়ে যায়। অভিযোগ, এর পর পাঁচটি লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয় প্রতারকেরা।
প্রথম দু’টি লেনদেনে প্রতিটিতে ১০,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় লেনদেনে তরুণীর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯,৯৯৯ টাকা তুলে নেওয়া হয়। প্রতারক পরবর্তী লেনদেনে ৫৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। শেষ লেনদেনে আকাঙ্ক্ষার অ্যাকাউন্ট থেকে ৪,৪৯৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
আকাঙ্ক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে প্রতারকের সঙ্গে কথা বলেছিল। সন্ধ্যায় তিনি তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন সমস্ত সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর। বাবাকে সমস্ত বিষয়টি জানানোর পর ব্যাঙ্কে ছুটে যান আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু তত ক্ষণে শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আকাঙ্ক্ষার বিয়ে এবং বাড়িতে পাম্প লাগানোর জন্য পরিবারের জমানো টাকা প্রতারকেরা নিয়ে নেয় বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে আকাঙ্ক্ষা বা তাঁর পরিবার অভিযোগ দায়ের করেননি। লাভেদি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিবারটি এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে অভিযোগ দায়ের করা হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
