প্রেম করাই কাল হল! খাস কলকাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার এক যুবক। বেহালা সুরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্কে এক যুগলের প্রণয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে উঠে এল লজ্জার ছবি। প্রেমে আপত্তি থাকায় যুবক ও তাঁর বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার প্রেমিকার বাবা ও মামা সহ ৩ জন।
ফোন করে ডাকা হয় ছেলেটির বাবাকে। তারপরই চরম শাস্তির সিদ্ধান্ত। ছেলের সামনেই তাঁর বাবার হাতে বন্দুক তুলে দিয়ে নিদান দেয় তরুণীর পরিবার। বলা হয়, হয় ছেলেকে মেরে ফেলতে হবে, নয়তো নগ্ন হয়ে হাঁটতে হবে রাস্তায়। এরপরই ওই যুবক ও তাঁর বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ ওঠে প্রেমিকার বাবার বিরুদ্ধে।
মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ভিডিও ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়। জানা গিয়েছে, সরশুনা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক যুবতীর। তবে দু’জনের সম্পর্ক প্রথম থেকে মেয়ের বাড়ির লোকের আপত্তি ছিল। কিন্তু সেই আপত্তির রেশ পৌঁছে গেল বর্বরতায়! ২৫ অক্টোবর ওই যুবক-যুবতীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে মেয়েটির বাড়ির লোক। অভিযোগ, তারপরেই ওই যুবককে ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে ওই যুবতীর বাবা ও মামা। তারপর ফোন করে ডাকা হয় ছেলেটির বাবাকে। তারপরই চরম শাস্তির সিদ্ধান্ত। ছেলের সামনেই তাঁর বাবার হাতে বন্দুক তুলে দিয়ে নিদান দেয় তরুণীর পরিবার। বলা হয়, হয় ছেলেকে মেরে ফেলতে হবে, নয়তো নগ্ন হয়ে হাঁটতে হবে রাস্তায়। এরপরই ওই যুবক ও তাঁর বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ ওঠে প্রেমিকার বাবার বিরুদ্ধে। ছেলেটির এক বন্ধুকেও একইভাবে মারধর ও শাস্তি দেওয়া বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, এমনকী বন্দুক বের করে তাঁর বাবার হাতে ধরিয়ে ছেলেকে গুলি করতেও বলা হয়েছিল। ঘটনা দেখে তাজ্জব হয়ে যায় গোটা এলাকা। যুবতীর পরিবারের কাণ্ডে দেখে উত্তেজিত হয়ে যায় জনতা। এরপরই মেয়েটির বাড়ি ভাঙচুর করতে তেড়ে যায় তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ততক্ষণ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় মেয়ের বাবা ও অন্যান্য সদস্যরা। তবে মেয়েটির মামাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে ক্ষিপ্ত জনতা। তাঁকে মারধর করে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবতীর পরিবার আগে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই থেকেই ঔদ্ধত্য। মেয়েটির বাবা ও মামার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। গোটা ঘটনা নিন্দার ঝড় উঠেছে। সমাজকর্মী শাশ্বতী ঘোষ বলেন, “এই ঘটনা যাঁরা ঘটিয়েছেন, তাঁরা মানসিক ভারসাম্যহীন। আর যাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তাঁরা কি মজা নিয়েছেন? নাকি এর প্রতিবাদ করেছেন, তাও তদন্ত করা দরকার।”
