আজ ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার থেকে কাউন্টারে টিকিট কাটলেও মিলবে বিমার সুবিধা। সুপ্রিম নির্দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে এই বিধি। এতদিন অনলাইনে টিকিট কাটলে এই সুবিধা পেতেন যাত্রীরা। এবার রেলস্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলেও যাত্রীরা ট্রাভেল ইনসিওরেন্স বা ভ্রমণ বিমার সুবিধা পাবেন।
এতদিন আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটার সময় বিমা নিতে চান কি না গ্রাহক সেই বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে অফলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রেও সেই সুবিধা চালু করুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনযাত্রার নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অনলাইন ও অফলাইন টিকিট বুকিংয়ের মধ্যে বিমার সুবিধায় সমতা আনতেই এই পদক্ষেপ। অনলাইনে এই বিমার প্রিমিয়াম কর-সহ যাত্রীপিছু মাত্র ৪৫ পয়সা। পলিসির শর্ত অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার কভার পাওয়া যেতে পারে। দুর্ঘটনায় আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে বিমা থেকে মিলবে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা বাবদ খরচে মিলবে দু’লক্ষ টাকা এবং দেহবহন বাবদ খরচ মিলবে দশ হাজার টাকা। তবে কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে বিমার প্রিমিয়াম কত হবে, কী কী নথি লাগবে এবং বিমার টাকা দাবি করার পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই কাউন্টার টিকিটের ক্ষেত্রে অনলাইন বুকিংয়ের মতোই একই বিমার অঙ্ক ও প্রিমিয়াম প্রযোজ্য হবে, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি রেলের তরফে।
রেলযাত্রীদের বিমার আওতায় আনার এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওড়িশার বালাসোরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রেলের টিকিট বুকিংয়ের সঙ্গে বিমার সুবিধা যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত ৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ রেলওয়েকে নির্দেশ দেয়, রেলস্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে বুক করা সমস্ত টিকিটের ক্ষেত্রেও বিমার কভার চালু করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই ২৭ অক্টোবর থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
