Published on
:
2 min read
লিজ় নিয়ে বিবাদের জেরে হোটেল মালিক-সহ ৫ জনকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল ঘনকান্ত গগৈয়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম আরও এক জন। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ গুয়াহাটির ‘বিলাস ইন’ হোটেলের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ঘনকান্তকে গ্রেপ্তার করেছে গুয়াহাটি পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে একটি ৩২ বোরের পিস্তল। পুলিশের দাবি, এই আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি চালিয়েছিলেন ঘনকান্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বিলাস ইন’-এর মালিক হলেন হেলেনা ভরালি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। প্রায় এক বছর আগে তাঁদের থেকে লিজ় নিয়ে হোটেলটি চালাচ্ছিলেন ঘনকান্ত। সম্প্রতি চুক্তি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর বিবাদ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তবে ভাড়া নাকি চুক্তির শর্ত — বিবাদ ঠিক কী নিয়ে, তা এখনও অজানা। পুলিশের দাবি, নিজের রাগ মেটাতেই এ দিন হোটেলে গুলি চালান অভিযুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এদিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ একটি ৩২ বোরের পিস্তল থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন তিনি। সেই সময়ে রিসেপশনে ছিলেন হোটেল মালিক, তাঁর ছেলে-সহ বেশ কয়েক জন আবাসিক। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। রক্তে ভেসে যায় চারদিক। আচমকা গুলির শব্দে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় হোটেলে। আশপাশের বেশ কিছু দোকানে তখন লোকজন ছিলেন। তাঁরাও ছোটাছুটি শুরু করে দেন। এর মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ঘনকান্ত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই হোটেলে পৌঁছয় গুয়াহাটি পুলিশ। ঘটনায় মোট মোট ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচ জনের। অসমের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেল মালিক হেলেনা ভরালি এবং তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ। এছাড়া নারায়ণ দাস (৪৮) এবং চৈতন্য পাঠকেরও (৪২) মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চম জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সত্যেন পাঠক (৪২) নামে আহত এক যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও মৃতদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
ঘটনার পরেই শুরু হয় তল্লাশি। এক ঘণ্টার মধ্যে ঘনকান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ৩২ বোরের পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। পিস্তলটির লাইসেন্সও রয়েছে ঘনকান্তর নামেই। পুলিশের দাবি, ওই পিস্তল থেকেই গুলি চালিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত। তিনি বলেন, ‘লিজ় সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
হোটেল মালিককে দেখেই রাগে ঘনকান্ত গুলি চালান কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস। X পোস্টে তারা লিখেছে, ‘গুয়াহাটির এই ভয়াবহ ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে।’ নিহতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছে হাত শিবির। একই সঙ্গে বিজেপির হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসনকে খোঁচা দিয়ে তারা লিখেছে, ‘অসমবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।’
