অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চার দিনের আনুষ্ঠানিক সফরে জাপান-এ অবস্থান করছেন এবং তাঁর এই সফর ও দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক জাপানি গণমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যৌথ সমৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাপানি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিদ্যমান অপার সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সমন্বিত সহযোগিতা বৃদ্ধি করে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ।
২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই কাঠামোটি চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে: প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির জন্য যৌথ নিয়মাবলি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সহযোগিতা।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে উভয় সরকার একটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছিল। জাপান বর্তমান পার্লামেন্ট অধিবেশনে এই ইপিএ অনুমোদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই ইপিএ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করবে—যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিধি ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা—কারণ এর ফলে আরও বেশি জাপানি কোম্পানি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা স্তম্ভের ক্ষেত্রে, জাপান ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ওএসএ)-এর আওতায় সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। গত জুলাই মাসে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে জাপান ওএসএ কাঠামোর অধীনে পাঁচটি টহল জাহাজ সরবরাহ করেছিল।
ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপথের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশকে জাপান দীর্ঘদিন ধরেই একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, জাপান সম্ভবত বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এটিভি/ এইচকে
