প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৪ এএম
ইসরেলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ পর্যায়ে এসে পৌছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। সংখ্যানুপাতিক (পিআর) প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে আয়োজিত এই নির্বাচনে কোনো দল কত আসন পাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশটির পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।
তবে এবারের নির্বাচনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ দেখা গেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ পার্টি’র শিবিরে।
নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের অংশীদার আরব-ইসরেলি বা ইসরেলি-ফিলিস্তিনি ভোটাররা ব্যাপক হারে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
এই ভোট ব্যাংক নেতানিয়াহুর দলের ভোট কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু তার সমর্থকদের প্রতি শেষ মুহূর্তেও কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আসন কম পেলেও নেতানিয়াহুর টিকে থাকার সুযোগ
ইসরেলে পার্লামেন্টে মোট আসন পেতে সংখ্যানুপাতিক নিয়মে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব করা হয়। ভোটের ফলাফলে লিকুদ পার্টি পিছিয়ে পড়লেও নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে যেতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন বিশ্লেষণে প্রধান চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামনে এসেছে:
মিত্রদের নিয়ে জোট
নেতানিয়াহুর দল তুলনামূলক কম আসন পেলেও তার বর্তমান মিত্রদের নিয়ে কিংবা অন্যান্য ছোট দলগুলোকে সঙ্গে টেনে নিয়ে ৬১টি আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ পূরণ করে আবারও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
বিরোধী জোটের ক্ষমতার সম্ভাবনা
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের দল বেশি আসন পেলে এবং অন্যান্য জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২১ সালের মতো আরব রাজনৈতিক দল ‘রা'ম’ (Ra'am) বিরোধী জোটে যোগ দিয়ে সরকার গঠনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
জাতীয় ঐক্য সরকার
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোত একজোট হয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠন করতে পারেন। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এ ধরনের যৌথ সরকার গঠনের জন্য ইসরেলকে পরামর্শ দিচ্ছে। এই সরকারে অন্য ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হতে পারে।
মাইনরিটি সরকার
যদি বড় কোনো রাজনৈতিক জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত ছোট দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সংখ্যালঘু বা 'মাইনরিটি' সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভোটের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ক্ষমতার চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা