ডিজিটাল উপায়ে সুবাস আদান-প্রদান
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ পিএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ছবির পাশাপাশি অনলাইনে খুব দ্রুত সুবাস আদান-প্রদান করাও সম্ভব হতে পারে। গবেষকরা এমন একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ডিজিটাল উপায়ে সুবাস পাঠানো যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ‘সেন্ট্রনিক’।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক চুনয়ু ইয়াং জানান, এই প্রযুক্তির কাজ কোনো স্থানের সুবাস শনাক্ত করে অন্য স্থানে তা পুনরায় তৈরি করা। এর মাধ্যমে মানুষ এখন ছবি ও শব্দের পাশাপাশি সুবাসও ভাগাভাগি করতে পারবে।
এই প্রযুক্তির মূল দুটি অংশ রয়েছে। একটি হলো ‘ই-নোজ’। এটি বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ শনাক্ত করতে পারে। অন্য অংশটি হলো সুবাস তৈরির যন্ত্র। ই-নোজ সুবাস শনাক্ত করার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংকেত পাঠায়। সেই সংকেতের ভিত্তিতে দূরবর্তী যন্ত্রে সংশ্লিষ্ট সুবাস তৈরি হয়। তবে সুবাসের মূল অণুগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় না।
বর্তমানে এই ই-নোজ মাত্র পাঁচটি সুবাস শনাক্ত করতে পারে। এগুলো হলো বিয়ার, কেক, কফি, কমলা ও রেড ওয়াইন। গবেষকরা জানান, দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত কিছু সুবাস দিয়ে আপাতত এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন সুবাস যোগ করতে হলে যন্ত্রটিকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সুবাস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তরল উপাদান যুক্ত করতে হবে।
গবেষকরা মনে করেন, এই প্রযুক্তির নানা ধরনের ব্যবহার থাকতে পারে। দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবারের সুবাস ভাগ করে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ও অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও বাস্তবসম্মত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার আগে গ্রাহক দূর থেকেই সেই পণ্যের সুবাস অনুভব করতে পারবেন।
তবে এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী করতে হলে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালাতে হবে এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সুবাসের মিশ্রণের মধ্যেও কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। গবেষকরা জানান, যন্ত্রটির স্থায়িত্ব, উৎপাদন খরচ ও বারবার ব্যবহারের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে সুবাস পাঠানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কা ও করণীয়
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইন্টারনেটের সিংহভাগ ওয়েবসাইট পরিচালনার কোডে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবারজগতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে এই ত্রুটি শনাক্ত করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট চালনায় এই প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়। হ্যাকাররা সহজে এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওয়েবসাইটগুলোতে অনধিকার প্রবেশ করতে পারে। সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দ্রুত সমাধান খুঁজতে কাজ শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে সাইবার হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন গোপন থাকা বিভিন্ন সফটওয়্যারের জটিল ব্যাকরণগত ত্রুটিগুলো এখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে শনাক্ত ও অপব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ পিএইচপি সম্পর্কিত ত্রুটি কেবল এর পরিচালনাকারীরা ঠিক করতে পারেন। তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ থাকতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা এমএফএ ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা। বিভিন্ন সাইটের জন্য আলাদা ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি পাসকি কিংবা ওটিপি কোড ব্যবহার করা হলে নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। কোনো কারণে ওয়েবসাইটের প্রধান নিরাপত্তাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাসকি ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত ব্যবহারের স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং রাউটারের হার্ডওয়্যার হালনাগাদ বা অটোমেটিক আপডেট চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপত্তার সুরক্ষায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা প্যাচ বা আপডেট দিয়ে থাকে। এগুলো দ্রুত ইনস্টল করা হলে সাইবার অপরাধীদের সুযোগ কমে যায়। বাসায় ব্যবহৃত ইন্টারনেট সংযুক্ত আইওটি ডিভাইসের আপডেটও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সাইট থেকে নিয়মিত যাচাই করে নেওয়া উচিত।
তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিজেদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত মেরামত বা ‘প্যাচ’ করা। সাইবার বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগের আক্রমণে হ্যাকাররা দ্রুত সুযোগ খুঁজে পেলেও পুরো ব্যবস্থা মেরামত করা তুলনামূলক কঠিন। এই ব্যবধান সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করার ওপরই ইন্টারনেটের সার্বিক নিরাপত্তা নির্ভর করছে।
চতুর্থত, বৈশ্বিক বড় কোনো সাইবার নিরাপত্তার খবর প্রকাশিত হলেই স্ক্যামার ও প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। জরুরি ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট নিরাপদ করার বার্তাসংবলিত সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো বার্তার সত্যতা যাচাই করতে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের মূল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করা নিরাপদ।
ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও অনিরাপদ ই-কমার্স সাইটে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে একই পাসওয়ার্ড একাধিক কেনাকাটার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এআইচালিত এই নতুন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই একমাত্র সমাধান।
আরও পড়ুন
ফেসবুকে লিংক শেয়ারে লাগবে ফি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের সঙ্গে লিংক শেয়ার করার সুবিধা সীমিত করছে মেটা। এখন থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা ওয়েবসাইটের লিংক পোস্ট করতে হলে গুনতে হবে নির্ধারিত ফি। নতুন এই নিয়মের কারণে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সামাজিক সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের গ্রিনভিল শহরের কমিউনিকেশনস ম্যানেজার ড্যানিয়েল স্টার্কস সম্প্রতি এই নতুন সমস্যার মুখোমুখি হন। শহরের এক পাঠাগারের ফেসবুক পেজে মাসে দুটির বেশি লিংক পোস্ট করার চেষ্টা করলে নোটিফিকেশন আসে। সেখানে বলা হয়, প্রতি মাসে নির্ধারিত দুটি ফ্রি লিংক শেয়ারের কোটা শেষ হয়ে গেছে। এর পর আরও লিংক দিতে হলে ‘মেটা ওয়ান’ সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।
এই সাবস্ক্রিপশনের ফি শুরু হচ্ছে ৫০ ডলার থেকে। সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য ফেসবুক ফান্ডের সুবিধা থাকলেও লিংক শেয়ারের এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা। কারণ তাদের তথ্য প্রচারের একটি বড় অংশ ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনেক সংস্থা এখন পেজের পরিবর্তে ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরে লিংক শেয়ার করা শুরু করেছে।
মেটা জানিয়েছে, এটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। পেইড মেম্বারশিপ বাড়াতে তারা এমন পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচে প্রতি মাসে আটটি লিংক পোস্ট করতে ৫০ ডলারের কাছাকাছি খরচ করতে হবে। এ ছাড়া আনলিমিটেড লিংক পোস্ট করার জন্য প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে ফেসবুক বিনা মূল্যে ব্যবহারের যে ধারণা চালু ছিল, সেখান থেকে সরে এসে অর্থের বিনিময়ে মূল সেবাগুলো দেওয়ার এই চেষ্টা সাধারণ ব্যবহারকারী ও ছোট সংস্থাগুলোর জন্য জটিলতা তৈরি করছে। ফেসবুকের মতো প্রাথমিক ফিচার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেটা ওয়ান সেবার অংশ হিসেবে যুক্ত করাকে মূলত বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের কৌশল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন
অনুমতি ছাড়াই ব্যাংকে লেনদেন এআই এজেন্টের
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করছে এআই এজেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। কয়েকটি ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলা হয়, কিছু এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
বর্তমানে বিভিন্ন কাজের জন্য অনেকেই এআই এজেন্টকে ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সরাসরি লগইন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এআই এজেন্টগুলো যখন কেনাকাটা বা অর্থ স্থানান্তর করতে শুরু করে, তখন অনলাইন জালিয়াতির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ব্যাংকগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীর সরাসরি অনুমতি ছাড়াই কিছু এআই এজেন্ট এমনকি কল সেন্টারেও যোগাযোগ করছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে মরগান স্ট্যানলি, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও ওয়েলস ফার্গোর মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
বেশ কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের এআই এজেন্টের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কিছু ব্যাংক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা করছে, যাতে এসব এআই এজেন্ট কেবল তথ্য দেখতে পারে, কিন্তু কোনো লেনদেন বা পরিবর্তন করতে না পারে।
ব্যাংক চেজের এক মুখপাত্র গ্রাহকদের সতর্ক করে বলেছেন, ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড কখনোই এআই এজেন্টসহ অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে হাজার হাজার ক্ষতিকর এআই এজেন্ট আর্থিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় রয়েছে।
এআই এজেন্টের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঘটনা এখনো ব্যাপকভাবে সামনে আসেনি। তবু এখন থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কোনো এআই এজেন্ট ভুল লেনদেন করলে গ্রাহক সেই অর্থ ফেরত নাও পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার আইনের আওতায় এ ধরনের লেনদেনকে ব্যবহারকারীর নিজের অনুমোদিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে ব্যাংক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য না-ও হতে পারে। তাই নিজের পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখা এবং এআই এজেন্টকে ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন
ক্যান্টন মেলায় নজর কেড়েছে বুদ্ধিমান ডিজিটাল বোর্ড
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
চীনের ১৪০তম ক্যান্টন মেলা
-->শ্রেণিকক্ষে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ্যসামগ্রী প্রস্তুত, এমনকি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক মূল্যায়ন—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন নানা প্রয়োগ দেখা গেছে চীনের এবারের ১৪০তম ক্যান্টন মেলায়।
মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্ল্যাকবোর্ড। এর সাহায্যে শিক্ষক সহজেই ত্রিমাত্রিক ঘনক ও আয়তঘন তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন অংশ কেটে বা সরিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্যামিতিক কাঠামো বোঝানোর সুযোগও রয়েছে।
প্রযুক্তিটি ১৩টি ভাষায় পাঠদান সমর্থন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ্যসামগ্রী ও শ্রেণিকক্ষের পরীক্ষা তৈরি করা যায়।
প্রযুক্তি প্রকৌশলী ছাই খাইহং জানালেন, ‘ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি মডিউলের সাহায্যে দ্রুত ঘনক ও আয়তঘনের মতো আকৃতি তৈরি করা যায়। এর বিভিন্ন অংশ সরিয়ে শিক্ষার্থীরা সেগুলোর গঠন ভালোভাবে বুঝতে পারে।’
হাংচৌয়ের একটি প্রতিষ্ঠান মেলায় এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এমন একটি রোবট, যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে।
একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপপ্রধান মেই ছাও জানালেন, ‘আলোকপ্রযুক্তির সাহায্যে ৩০ সেকেন্ডে মুখের অভিব্যক্তি ধারণ করা হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যা অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।’
ক্যান্টন মেলায় প্রদর্শিত এসব উদ্ভাবন তুলে ধরছে প্রযুক্তি ও শিক্ষার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা। সূত্র: সিএমজি
