কেরলমের কোচিতে মেরসেডেস বেনৎজ়ের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনায় রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলল নাটকীয় উত্তেজনা। বিচারকের অভিযুক্ত নাবালক পুত্রকে এক বার জামিন দিয়ে ফের ধরল পুলিশ। রাতেই তাকে হাজির করানো হল জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। সেখান থেকে শেষে জামিনে ছাড়া পায় বিচারকের ১৭ বছর বয়সি পুত্র। মেরসেডেসের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনায় ওই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও রুজু করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার সময়ে বিচারকের পুত্রই গাড়িটি চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে রবিবার প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। কিন্তু সন্ধ্যার মধ্যেই থানা থেকে জামিন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বিচারক-পুত্রকে। তার প্রতিবাদে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মৃতের পরিবারের সদস্যেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফের ওই বিচারক-পুত্রকে ধরে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। মেরসেডেসের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনায় জোড়া হয়েছে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও।
শনিবার বেশি রাতের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল কোচির কাছে চেরানাল্লুরে। ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে স্কুটারে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। সে সময়ে পিছন থেকে তাঁকে ধাক্কা মারে মেরসেডেসটি। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্কুটারচালকের। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে এক আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের নামে। অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁর ১৭ বছর বয়সি পুত্র। পিটিআই অনুযায়ী, প্রাথমিক ভাবে ওই দুর্ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ ধারায় অবহেলাজনিত কোনও ঘটনার জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভের পরে ১০৫ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও যুক্ত করা হয় ওই ঘটনায়।
রবিবার সন্ধ্যায় চেরানাল্লুর থানা থেকে বিচারক-পুত্র জামিন পেতেই বিক্ষোভ শুরু করে মৃতের পরিবার। মৃত ব্যবসায়ীর পুত্র-কন্যা এবং আরও বেশ কয়েক জন মিলে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিচারক-পুত্রকে ধরে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করানোর দাবি তোলেন তাঁরা। বিক্ষোভ চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন মৃতের কন্যাও। পুলিশই তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পিটিআই অনুযায়ী, বিচারকের নাবালক পুত্র গাড়িটি খুব দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগেও সে একই ভাবে গা়ড়ি চালিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থানার বাইরে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে আরও অনেকে জড়ো হন সেখানে। এ অবস্থায় অভিযুক্তকে ফের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। সেই মতো রবিবার গভীর রপাতে বিচারকের বাসভবনে যায় পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে তাঁর ছেলেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রাতেই হাজির করানো হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। অবশেষে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড থেকে জামিন পায় বিচারক-পুত্র।
