ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার অপ্রত্যাশিত জয়ের পর নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। অন্যদিকে, পরাজিত ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর দল নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, ব্রাজিলের নির্বাচনকে তার কাছে আরেকটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে হয়েছে। ভোট গণনার পদ্ধতি এবং ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও রোববারের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর পর তিনি লুলার জয় বাতিলের আবেদন করার কথা বলেন।
তবে সোমবার পরে বলসোনারোর দল লিবারেল পার্টি এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ফল স্বীকার করে নেয়। দলের প্রধান ভালদেমার কোস্তা নেতো বলেন, তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিচ্ছেন। তবে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প কোনো প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রচার চালিয়েছিলেন।
লুলা চার লাখের বেশি নয়, বরং ৪০ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বলসোনারোকে হারিয়েছেন। ফলে এই ফল পাল্টে দেওয়া কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী নথি বিশ্লেষণ করে ইনসপার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পেদ্রো বুর্গোস জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দুই ঘণ্টায় ৩৫ হাজারেরও কম ভোট পড়েছিল, যা মোট ভোটের প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরালদো আলকমিন ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষেও কথা বলেন।
এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পরাজয়ের ফল মেনে নেননি ট্রাম্প। একইভাবে ২০২২ সালে লুলার কাছে হারের পর ফল স্বীকার করেননি জইর বলসোনারো। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
