সাংবাদিকদের নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের অপেশাদার, নিন্দনীয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। একই সঙ্গে আইজিপিকে অবিলম্বে তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে এলআরএফ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকেরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।’
সোমবার এক বিবৃতিতে পুলিশপ্রধানের এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাদারি ও সততা নিয়ে এমন অপেশাদার মন্তব্য অসাংবিধানিক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
মাদক কারবার, অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। নানা ধরনের বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও সাংবাদিকেরা এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু আইজিপির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়ায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বাধাবিপত্তি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এক কথায়, আইজিপির এ বক্তব্য অপেশাদার, নিন্দনীয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন, আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য।
নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু এ ধরনের অপেশাদার ভাষায় অরুচিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য করে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করা অনভিপ্রেত।
নেতারা পুলিশপ্রধানকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় পেশাদার সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
