স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা, শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিমানবন্দর জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশ্নে এক নারী জানান, বিয়ের আগে তার বাবা বলেছিলেন, যেসব পরিবারে স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে যাতায়াত করা হয়, সেসব পরিবার দ্বীনদার নয়। পরে তার স্বামী মোটরসাইকেলে উঠতে বললেও লজ্জার কারণে তিনি ওঠেননি। এতে স্বামীর সঙ্গে বেয়াদবি হয়েছে কি-না এবং এভাবে যাতায়াত করা জায়েজ কি-না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, শারঈ পর্দা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা জায়েজ। এ ধরনের যাতায়াতের কারণে কোনো পরিবারকে দ্বীনদার নয় বলে আখ্যায়িত করার শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল উট ও ঘোড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রী হজরত সাফিয়্যা (রা.)-কে উটের পিঠে নিজের পেছনে বসিয়ে সফর করেছেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে।
তবে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের সময় পোশাক ঢিলেঢালা ও পর্দাসম্মত রাখা, ওঠানামার সময় সতর প্রকাশ না পাওয়া এবং নন-মাহরাম ব্যক্তিদের সামনে পর্দার বিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
মুফতি জাওয়াদ তাহেরের মতে, পর্দা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হলে স্বামীর পেছনে মোটরসাইকেলে যাতায়াতকে হারাম বলা যাবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এসব বিধান মানা কঠিন হলে বিকল্প বাহন বেছে নেওয়া যেতে পারে।
স্বামীর কথায় মোটরসাইকেলে না ওঠার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু লজ্জার কারণে না ওঠাকে স্বামীর সঙ্গে বেয়াদবি বলা যায় না। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা উচিত।