উগান্ডায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ঙ্কর অভিযোগ। গত ১৫ বছরে ৩৮ জনকে খুন করে তাঁদের দেহ খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ধৃতের নাম মোসেস মুজুরিজি। সম্প্রতি তাঁর গ্রেপ্তারির কথা জানিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত চলছে।
সেনাপ্রধানের দাবি, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উগান্ডার মাসাকা, ইবান্দা এবং কাজো এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে গ্রেপ্তারির খবর জানান তিনি। অভিযুক্তের হাতকড়া পরা একটি ছবিও প্রকাশ করেন। কাইনেরুগাবা জানিয়েছেন, মামলার বিচার প্রকাশ্যে হবে। দোষ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে, চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের।
কী অভিযোগ উঠেছে ধৃতের বিরুদ্ধে?
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তের নিশানায় থাকত গোটা পরিবার। বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হতো বলে দাবি।২০১৩ সালের জানুয়ারিতে উগান্ডার রাকাই এলাকায় পেন্টেকস্টাল ধর্মযাজক স্টিভেন মুগাম্বের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ন’জনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া মোসেসের যোগ কতটা, তা স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীরা পুরোনো নিখোঁজের ঘটনা এবং অমীমাংসিত খুনের মামলাগুলিও খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যদিও সেই প্রমাণ ঠিক কী, তা এখনও বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি।
পুরোনো তদন্তে কী উঠে এসেছিল?
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি নাম — ফ্রেড মুজুলিজি, যিনি কুলাইশ কামুগিশা নামেও পরিচিত। ২০১৩ সালের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে গ্রেটার মাসাকা অঞ্চলের একাধিক হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই বছর একই ধরনের হামলায় ৩৫ জনের মৃত্যুর কথাও উঠে এসেছিল। তবে সব মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর যোগ প্রমাণিত হয়নি।
সম্প্রতি ফ্রেড মুজুলিজি এবং হুজাইরুহ কিয়ামবাদ্দে নামে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য একটি খুনের মামলার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। উগান্ডা রেডিয়ো নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর মাসাকার আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়েছিল। অভিযোগ, এক মহিলাকে সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে খুন করা হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘটনার পিছনে তন্ত্রসাধনার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। দুই অভিযুক্তকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
একনজরে
অভিযুক্তের নাম: মোসেস মুজুরিজি
দেশ: উগান্ডা
অভিযোগ: ৩৮ জনকে খুন করে তাঁদের দেহ খেয়ে ফেলা
অভিযোগের সময়কাল: ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল
যে এলাকাগুলির নাম উঠে এসেছে: মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো
গ্রেপ্তারির খবর: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
তদন্তের বর্তমান অবস্থা: পুরোনো নিখোঁজের ঘটনা ও অমীমাংসিত খুনের মামলাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
FAQ
১. মোসেস মুজুরিজি কে?
মোসেস মুজুরিজি উগান্ডার এক ব্যক্তি। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৮ জনকে খুন করার অভিযোগে তাঁর গ্রেপ্তারির কথা জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা।
২. মোসেস মুজুরিজির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ, তিনি ১৫ বছর ধরে একাধিক ব্যক্তিকে খুন করেছেন এবং তাঁদের দেহ খেয়েছেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
৩. উগান্ডার কোন কোন এলাকায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে?
সেনাপ্রধানের দাবি অনুযায়ী, মাসাকা, ইবান্দা এবং কাজো এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
৪. অভিযুক্তের বাড়ি থেকে কী উদ্ধার হয়েছে?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। তবে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
৫. মোসেস মুজুরিজির কি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে?
উগান্ডার সেনাপ্রধান মৃত্যুদণ্ডের কথা বললেও, অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কী সাজা হবে, তা নির্ধারণ করবে আদালত।
৬. ২০১৩ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে কি?
২০১৩ সালে উগান্ডার রাকাই এলাকায় একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ন’জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে মোসেস মুজুরিজির যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
৭. এই মামলার তদন্ত কি এখনও চলছে?
হ্যাঁ। পুরোনো নিখোঁজের ঘটনা, অমীমাংসিত খুন এবং উদ্ধার হওয়া সম্ভাব্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
