গাস অ্যাটকিনসনের লো ফুলটস বলটা ফ্লিকের চেষ্টায় ব্যর্থ হন শাদাব খান, বল আঘাত হানে তার ব্যাটে। আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ জেতার স্বস্তিতে মাতে ইংল্যান্ড। আউট ভেবে হতাশায় মাথা নুইয়ে পড়া শাদাবকে সান্ত্বনা দেন জো রুট। দুই দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষ ধরে নিয়ে সৌজন্য বিনিময়ও শুরু করেছিলেন। কী ভেবে একদম শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন শাদাব—তারপর তো মহানাটকীয়তা!
২৪২ রান তাড়ায় ১৫৪ রানেই পড়ে গিয়েছিল ৯ উইকেট। অমন অবস্থায় হারের ব্যবধান কমানোর আশাই ছিল পাকিস্তানের জন্য বাস্তবতা। কিন্তু শাদাব লেখেন অবিস্মরণীয় এক ইনিংসের গল্প।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি, সেটাও আট নম্বরে নেমে! হারিস রউফকে নিয়ে শেষ উইকেটে ৮০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রান যোগ করেন। ওয়ানডেতে সফল রান তাড়ায় শেষ উইকেট জুটির বিশ্বরেকর্ড এটি।এই পথে ৪৫তম ওভারে আউটই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জয়ের থেকে ২১ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন, ম্যাচ জেতার আনন্দেও মেতেছিলো ইংল্যান্ড। এমনকি শাদাবকেও স্বান্তনা দিচ্ছিলো তারা। শাদাবও ভেবেছিলেন আউটই, হতাশায় মাথা নেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। কী ভেবে একদম শেষ দিকে রিভিউ নেন তিনি। আল্ট্রা এজড প্রযুক্তিতে দেখা যায় বল তার পায়ে লাগার আগে ব্যাট স্পর্শ করেছিলো। অতি নাটকীয়ভাবে বেঁচে গিয়ে পরে নায়ক বনেন তিনি।
৯৬ বলে ১৩ চার ও ৫ ছক্কায় শাদাবের ১১৩ রান পাকিস্তানের ওয়ানডে ইতিহাসে রূপকথার অংশ হয়ে থাকবে।
ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকটা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন শাহীন, ‘আমি কিছুই বলতে পারছি না, শাদাব এবং হারিস যেভাবে খেলা শেষ করল, ৮৯ রানের জুটিতে। আমি জীবনে এমন কিছু দেখিনি। অধিনায়ক হিসেবে আমি সত্যিই আনন্দিত, সকাল থেকে পুরো দলের প্রচেষ্টা এককথায় দুর্দান্ত ছিল।’
এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। অন্যরকম জয় বলে উদযাপনেও মাতবেন শাহীনরা, ‘আজ রাতে আমরা উদযাপন করব, আর কাল থেকে আবার সব আগের মতো।’
