ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের বাইরে আরব ভোটারদের ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে এসব ভিডিওকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রে নজরদারি, ভোটারদের ভিডিও ধারণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সদর দপ্তরে তথ্য পাঠানোর জন্য কর্মী নিয়োগ ও তাদের পারিশ্রমিক দিতে লাখ লাখ শেকেল ব্যয় করেছে লিকুদ পার্টি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গঠন করা এসব দল ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নয়, বাইরে অবস্থান করবে। ফলে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কঠোর বিধিনিষেধ এড়িয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে তারা।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রচারাভিযান চালানোর বিষয়েও লিকুদের জ্যেষ্ঠ নেতারা আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, দলের কয়েকজন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে এমন কৌশল গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। প্রস্তাবটি বিবেচনা করছেন তিনি।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়া বৈঠকগুলোতে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই প্রচারকৌশলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তোলার ঘটনার মিল রয়েছে।
নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত লিকুদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরায়েলের ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোটের অনিয়ম নিয়ে দলটির অভিযোগকে বর্তমান নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ‘২০২২ সাল ছিল বর্তমান নির্বাচনের মহড়া।’
লিকুদের কয়েকটি সূত্রের ইঙ্গিত, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধারণ করা ভিডিওগুলো নির্বাচনী কারচুপির কথিত প্রমাণ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। যদিও এসব দলের ভোটারদের পরিচয় যাচাই করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই।
এদিকে, ইসরায়েলজুড়ে দলটির নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নজরে এলে তা একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী জালিয়াতি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে জানানোর কথা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মঙ্গলবার। এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের নজরদারি এবং সম্ভাব্য কারচুপির অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র : হারেৎজ
