October 27, 2026, 4:32 pm
১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানসহ যা আছে বাংলাদেশ–জাপান যৌথ ঘোষণায়
Reporter Name
- Update Time : Tuesday, October 27, 2026
- 14 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে দুই দেশই নিজেদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। দুই নেতার ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর মাধ্যমে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও বেশি সুদৃঢ় ও বহুমুখী রূপ লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে জাপানি বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন খাত, আধুনিক কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি তথা আইসিটি এবং উদীয়মান ওষুধশিল্পে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ করতে শুল্কায়ন, করব্যবস্থা ও লভ্যাংশ পাঠানোসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা স্মারক বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান বৈঠকেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম দ্রুত শুরু এবং ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আরও বেগবান করার বিষয়ে দুই নেতা একমত পোষণ করেছেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় জাপানের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে একটি আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিকস ও জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ও দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বিশেষ স্থান লাভ করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে নৌযান সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে টোকিও। বিশেষ করে মিয়ানমারে চলমান সংকট এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের একমাত্র সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


