বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সবুজ ঝাউবাগান। সম্প্রতি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির বালুচরে।ছবি: খবরের কাগজ
-->পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে আবারও সবুজের দেয়াল গড়ে তুলছে বনবিভাগ। গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর সৈকতে লাগানো হচ্ছে ঝাউগাছ। পাশাপাশি আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর তীরেও চলছে বনায়ন। বিশেষ করে ছইলা ও কেওড়ার মতো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সবুজের আচ্ছাদন। এতে উপকূলের বনভূমি সাগরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কার মধ্যেও নতুন চরভূমিতে গাছ লাগানোর এ উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, কলাপাড়ায় বন সৃজনের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ১৯৫৭ সালে এ অঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ষাটের দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে কৃষিজমি ও জনবসতিকে লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষার জন্য নদী ও সাগরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাঁধের বাইরের অংশে ব্যাপকভাবে গোলগাছসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান গড়ে তোলা হয়। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলাপাড়ায় ২ হাজার ৭৯৪ একর জমিতে গোলপাতার বাগান, ৬২৭ একরে কড়ই, ৩২০ একরে গেওয়া, ২১০ একরে নারিকেল, ১০৫ একরে সুন্দরী, পশুর ও কেওড়া, ৪৬ একরে সেগুন এবং ৪০ একরে হোগলাপাতার বাগান ছিল। এছাড়া ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ১ হাজার ৯২৯ একর এবং নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ৩১২ একর। পরবর্তী সময়ে সড়কের সংযোগপথ ও বাঁধের বিভিন্ন অংশে স্ট্রিপ বনায়ন এবং শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুয়াকাটা, খাজুরা, ধুলাসার ও গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখনো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশে গত দুই দশকে সাগরের ভাঙনে ম্যানগ্রোভসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বনভূমি পরিণত হয়েছে বালুচরে। তবে গঙ্গামতির দক্ষিণ-পূর্ব দিক এবং রাবনাবাদ মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠায় সেখানে বনায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বন বিভাগ। এদিকে নদীতীরে জেগে ওঠা চরভূমি যথাযথভাবে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় অনেক এলাকায় গাছ কাটা ও জমি দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, নতুন করে লাগানো ঝাউবাগানটি এখন বেশ সুন্দর দেখায়। তবে চরের বাকি অংশেও এভাবে বাগান করা প্রয়োজন। একই দাবি জানান নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদার।
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চল দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে নতুন জেগে ওঠা সব নদীতীরের চরভূমি বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আন্ধারমানিক নদীর তীরের প্লাবনভূমিসহ চর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় নদীর তীর দখল করে ইটভাটা, মাছের ঘের ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগকে আন্তরিক হতে হবে। সংরক্ষিত বনের এলাকায় কৃষিকাজ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে জোয়ারে ভেসে আসা বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে কাউয়ার চরে ৩২ একর জমিতে নতুন ঝাউবাগান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নদীতীরে প্রায় ৫০ একর জমিতে ছইলা ও কেওড়াসহ ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছ এখন বেড়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাত থেকে আট বছর আগে গঙ্গামতির তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ একর এলাকায় বনায়ন করা হয়। এসব গাছের অনেকগুলোই এখন বড় হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাগানগুলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে চারা রোপণ করা হয়।’
