বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর জন্য নিজেই জিনিসপত্র কেনাকাটা করেছিল মামির সঙ্গে বাজারে গিয়ে। কিন্তু পুজোর রাতে তারই মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসা হল। অভিযোগ, যৌন নির্যাতনের পর খুন করা হয় ওই কিশোরীকে! ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারই এক আত্মীয়কে। ঘটনায় শোকে বিধ্বস্ত ওই এলাকা। লক্ষ্মীপুজোও আর হল না ওই বাড়িতে। নাতনিকে হারিয়ে কেঁদেই চলেছেন বৃদ্ধা। তিনি বলেন, “পুজোর বাজার করেছিল মামির সঙ্গে৷ লক্ষ্মীপুজোর রাতে ওর দেহ ফিরল বাড়িতে।”
বিচিত্রানুষ্ঠান দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ওই কিশোরী। রবিবার সকালে ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল প্রতিবেশীর বাড়ির পাশ থেকে। ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে তার এক প্রতিবেশী আত্মীয়কেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা, তদন্ত করছে পুলিশ৷ গোটা এলাকা থমথমে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। রবিবার রাতেই দেহ বাড়িতে আনা হয়েছিল। রাতেই মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে।
এদিন বাড়িতে গিয়ে মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া ও বনগাঁ মহকুমাশাসক প্রগতি নৌটিয়াল। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলতে চাননি জেলাশাসক। মেয়েটির বাবার বাড়ি গোপালনগর এলাকায়। বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় মামারবাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করছিল ওই কিশোরী। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ওই বাড়িতে এসেছেন বাবা-মাও। মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা।
আজ, সোমবার ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। অশোকবাবু বলেন, “স্থানীয় বিধায়ক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে ওনাদের যোগাযোগ রাখতে বলেছি৷ প্রয়োজন হলে আমার দরজাও সবসময় খোলা আছে৷ আমাদের সরকার এই পরিবারের পাশে রয়েছে।” জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তিনিও পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
