Published on
:
2 min read
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য। মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, টাইগারকে নিশানা করার আগে অভিনেতা আমির খানের উফরে হামলার ছক কষেছিল শুটাররা। আমিরের বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি করেছিল তারা। কিন্তু অভিনেতার কাছে পৌঁছনো কঠিন বলে মনে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইগারকেই নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
আমির খানের উপরে নজরদারি
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট, আমির খানের বাড়ির আশপাশে অন্তত তিন বার ঘুরে বেড়িয়েছিল অভিযুক্তরা। ২০ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা থেকে মুম্বইয়ে এসেছিল অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান আনসারি। প্রায় এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকার সময় আমিরের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেছিল তারা।
তদন্তে উঠে এসেছে, আমির কখনও শুটিংয়ের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতেন এবং মুম্বইয়ে ফিরে দীর্ঘ সময়ে বাড়ির ভিতরেই থাকতেন। সুপারস্টারের বাইরে বের হওয়ার নির্দিষ্ট রুটিন না থাকায় তাঁর কাছে পৌঁছনোর সুযোগ পাওয়া কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এর পরে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হোমওয়ার্কের পরে পরিকল্পনা বদলে টাইগার শ্রফকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
কেন নিশানায় টাইগার শ্রফ?
তদন্তকারীদের অনুমান, টাইগারের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ায় তাঁকে আক্রমণ করা তুলনামূলক সহজ বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। জুহুর পুষ্প নারসি পার্কের ফুটবল মাঠে প্রতি রবিবার খেলতে যেতেন অভিনেতা। সেই অভ্যাসের কথা জানার পরে তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই মাঠের কাছে টাইগার খেলার শেষে গাড়িতে উঠতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুই বন্দুকবাজ। তৃতীয় অভিযুক্ত মোটরবাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে তদন্তে পুলিশ জেনেছে। গুলিতে অভিনেতার বদলে তাঁর গাড়িচালক আহত হন। অল্পবিস্তর আঘাত লাগে জ্যাকির পুত্রেরও। তার পরেও টাইগার নিজে গাড়ি চালিয়ে আহত চালককে নিয়ে থানায় পৌঁছন।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা এর আগে ১১ অক্টোবর ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল। কিন্তু ওই দিন টাইগার খেলতে না আসায় তারা ফিরে যায়। এক সপ্তাহ পরে ফের সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করছিল শুটাররা। টাইগার বেরোতেই তাঁর উপরে হামলা হয় বলে পুলিশ জানায়।
আমিরের সঙ্গে কী যোগ?
আমিরকে নিশানা করার পরিকল্পনার সঙ্গে চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁকে দেওয়া একটি হুমকির যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ওই সময়ে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে এক ব্যক্তি অভিনেতাকে হুমকি দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আমিরের ব্যক্তিগত জীবন ও বহু বিবাহ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল ওই বার্তায়। তবে জুলাইয়ের হুমকি এবং অক্টোবরের শুটিংয়ের মধ্যে সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।