দিনাজপুর প্রতিনিধি

গমের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়াতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং কৃষক পর্যায়ে উন্নত প্রযুক্তির সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. মোকতার হোসেন।
আজ সোমবার সকালে দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচ দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউটের কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ।
যুগ্ম সচিব মো. মোকতার হোসেন বলেন, গমের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে উৎপাদনমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং কৃষক পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক ড. মো. আব্দুল হাকিম, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা পলাশ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন এবং রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মশালার উদ্বোধনের আগে প্রধান অতিথি মো. মোকতার হোসেনসহ অন্য অতিথিরা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা প্লট ও প্লান্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা গমের বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের চারা, পরীক্ষামূলক আবাদ ও চলমান গবেষণা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এসব গবেষণার সম্ভাবনা ও প্রয়োগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ইনস্টিটিউটের নয়টি বিভাগের চলমান গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, নতুন জাত উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে গবেষণার ফলাফল সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

