বর্তমানে কিডনি রোগীদের নানাবিধ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতা না জানলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপের দিকে গিয়ে অকালমৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভালো থাকা সম্ভব। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা সিকেডি প্রতিরোধের কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, যা কিডনি সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালির ক্ষতি করে বিধায় রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ ও স্বাভাবিক রাখা জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও টক্সিন সহজে বের হয়ে যায়। খাদ্যে লবণের পরিমাণ কমানো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কিডনির ওপর বাড়তি চাপ কমায়। ধূমপান কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ধূমপান ও তামাক সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যথানাশক ওষুধ সেবন কিডনি বিকল করে থাকে। তাই ব্যথানাশক ওষুধ বাদ দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা উচিত। আদর্শ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় প্রচুর তাজা শাকসবজি ও ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করুন এবং সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সর্বদা আদর্শ ওজন বজায় রাখা জরুরি। এছাড়া ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত প্রস্রাবে অ্যালবুমিন এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা উচিত। এই নিয়মগুলো মেনে চললে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান, ডা. রাইসুর’স চেম্বার, হাকিম টাওয়ার, মধ্য বাড্ডা বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা
