বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমের রাইমনা জঙ্গলে চলে যাওয়া বাঘিনিকে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুখ খুললেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তাঁর দাবি, বাঘিনি বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছে, এমনটা বলা ঠিক নয়। নিজের এলাকা চিনে নিতে আপাতত রাইমনা জঙ্গলে গিয়েছে সে। এলাকা বুঝে নেওয়ার পর বাঘিনি আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে বলেই আশাবাদী বনমন্ত্রী। তাই এখনই তার গতিবিধিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না বন দফতর। বরং বাঘিনিকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও তিন মাস সময় দিতে চায় তারা।
বক্সায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিন বছর বয়সি একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে তাকে ছাড়া হয়। তার পর থেকেই বন দফতরের আধিকারিকেরা বাঘিনিটির গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। সম্প্রতি তার গতিবিধিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পরে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছে বাঘিনিটি। এর পরেই তার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে বন দফতরের বাঘ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ কয়েক জন আধিকারিককেও অসমে পাঠানো হয়েছে।
বাঘিনিটির গতিবিধি প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মনোজ বলেন, “বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে চলে গিয়েছে, এ কথা সঠিক নয়। আমরা বনকে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে ভাগ করেছি, বাঘেরা করেনি। তাই জঙ্গলের স্বাভাবিক গতিপথ ধরেই বক্সা থেকে বাঘিনিটি রাইমোনা জঙ্গলে গিয়েছে। তাই সে বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। আমাদের ধারণা, বাঘিনিটি নিজের এলাকা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তাকে মাস তিনেক সময় দিতেই হবে। সে যখনই নিজের এলাকা বুঝে নেবে, তখনই আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে।” বাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে চলে গিয়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা-ও মানতে নারাজ বনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে গিয়েছে, যাঁরা এমনটা বলছেন, তাঁদের ধারণা সঠিক বলে মনে হয় না। রাইমোনা জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বেশি হতে পারে, কিন্তু সেটাই বাঘিনিটির এলাকা বদলের একমাত্র কারণ হতে পারে না।”
বনমন্ত্রীর বক্তব্য, বক্সায় আরও বাঘ ছাড়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে তার আগে বাঘিনিটিকে জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় দিতে চায় বন দফতর। আপাতত আগামী তিন মাস তার গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হবে। বাঘিনিটি স্বাভাবিক ভাবে নিজের এলাকা বুঝে নিয়ে বক্সায় ফিরে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর বন আধিকারিকদের।
