পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ নিয়ে বড় বার্তা মন্ত্রীরAI Generated
Published on
:
2 min read
E20-এর ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তির মাঝে পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ নিয়ে বড় বার্তা পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর। পেট্রলে ইথানলের মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই কেন্দ্রের। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। গোয়ায় এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত E20-ই সরকারের লক্ষ্য। পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ আরও বাড়ানোর ইচ্ছা নেই।’ একই সঙ্গে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারেরও সমালোচনা করেন তিনি।
কী বললেন হরদীপ সিং পুরী?
দক্ষিণ গোয়ার বেতুলে আয়োজিত ২৯তম এনার্জি টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন মিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুরী। সেখানে E20 জ্বালানি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পেট্রলে ইথানল মেশানোর মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি করার কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। তাঁর বক্তব্য, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে নানা ধরনের মনগড়া, বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও ক্ষোভ উগড়ে দেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী।
পুরীর দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে পুরী স্বীকার করেছেন, পুরোনো গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যে গাড়িগুলি E20 জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি হয়নি, সেগুলির সঙ্গে নতুন জ্বালানির সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
কী এই E20 পেট্রল?
E20 হলো এমন এক ধরনের মিশ্রিত পেট্রল, যাতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল থাকে। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং নির্দিষ্ট কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত অ্যালকোহল। পেট্রলে ইথানল মেশানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অপরিশোধিত তেলের আমদানির উপরে ভারতের নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি।
ভারতে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের নির্ধারিত সময়সীমার পাঁচ বছর আগেই পূরণ হয়েছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালের ইথানল সরবরাহ বছরে গড় মিশ্রণের হার ২০ শতাংশে পৌঁছেছিল।
গাড়ির মাইলেজ ও ইঞ্জিন নিয়ে বিতর্ক
E20 পেট্রল চালুর পর থেকেই গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া এবং পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু গাড়ির মালিকের দাবি, এই জ্বালানি ব্যবহারের পরে তাঁদের গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা অর্থাৎ মাইলেজ কমেছে। অন্য দিকে, কেন্দ্রের বক্তব্য, পরীক্ষাগার ও বাস্তব ব্যবহারের তথ্য থেকে E20 জ্বালানির কারণে ব্যাপক হারে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
পুরীর দাবি, গাড়ির মাইলেজ কমার পিছনে যানজট, গাড়ির অবস্থা এবং চালানোর ধরনের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে ইথানলের মিশ্রণ বাড়লে জ্বালানির শক্তি উৎপাদনের বৈশিষ্ট্যেও পরিবর্তন আসে। তাই গাড়ির মডেল ও ইঞ্জিনের উপযোগিতা অনুযায়ী জ্বালানির প্রভাব আলাদা হতে পারে।
সরকারের যুক্তি ও কৃষকদের আয়
কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির ফলে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে কৃষকদের আয় বেড়েছে আনুমানিক ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে ভবিষ্যতে ইথানলের মাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার আগে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। আপাতত E20-র বাইরে পেট্রলে ইথানল মিশ্রণের হার বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন পুরী।
