শেরপুরের শালমারা গ্রামে দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় বসতঘরের ভেতরেই কবর দেওয়া হয়েছে ৭০ বছরের করিম মিয়াকে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে মারা যান তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এখন ওই ঘরের একপাশে তার কবর, অন্যপাশে বসবাস করছেন স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৬০)।
করিম মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা।
করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে ছিলেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে ঘরটি বাদে বাকি তিন শতাংশ জমি ফুফুর কাছে বিক্রি করে দেন। ঘরটি তার বাবা-মায়ের বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
কোতুলী বেগম বলেন, আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করতে পারতাম; কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, একসময় করিম মিয়ার জায়গাজমি ও প্রতিপত্তি ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাকে জমি বিক্রি করতে হয়।
করিম মিয়ার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এক মেয়ে ও ছেলে ঢাকায় থাকেন, অন্য মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। তার স্ত্রী সাজেদা খাতুন এখনো ওই ঘরেই বসবাস করছেন। ঘরের একপাশে স্বামীর কবর, অন্যপাশে তার থাকার জায়গা।
পরিবারের ভাষ্য- এলাকায় সরকারি কবরস্থানের ব্যবস্থা থাকলে করিম মিয়াকে সেখানে দাফন করা সম্ভব হতো।
তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইমারুল রাসুল বলেন, ঘটনাটি আমি জানি, মৃত ব্যক্তি একসময় সম্পদশালী থাকায় তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা অন্যের জমিতে বা দূরের কবরস্থানে কবর দিতে আগ্রহী নয়। তাই আপাতত তাদের থাকার ঘরের এক কোনায় কবর দিয়েছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তারা এই ঘরটি ভেঙে নিজেদের পারিবারিক কবরস্থান করার চিন্তা ভাবনা করছেন।