ইস্টবেঙ্গল - ০
আল সিব - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওমান থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার রাতে আল সিব স্টেডিয়ামে খেলা গোলশূন্য ড্র। পয়েন্ট ভাগ করে নিল ইস্টবেঙ্গল এবং আল সিব। তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট আন্তোনিও হাবাসের দলের। প্রত্যেক ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করায়, পরের রাউন্ডে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হচ্ছে কলকাতার প্রধানের। তবে শেষদিকে যেভাবে সাঁড়াশি আক্রমণ করেছিল ওমানের দল, ক্লিনশিট রাখতে পারায় খুব অখুশি হবেন না হাবাস। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুয়ের প্রথম দুই ম্যাচে যে আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা গিয়েছিল, এদিন সেই ফুটবল উপহার দিতে পারেনি লাল হলুদ। কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলান হাবাস। তবে তারমধ্যেও সুযোগ এসেছিল। কিন্তু দুই দলই অ্যাটাকিং থার্ডে ব্যর্থ। সঙ্গে ক্রিয়েটিভিটির অভাব। ৩ নভেম্বর কলকাতায় আবার আল সিবের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল।
এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুয়ের গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু জর্ডনে আল হোসেনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে হাবাসের দল। কলকাতায় আল শোর্তার বিরুদ্ধেও জোড়া গোলে এগিয়ে একাধিক সুযোগ নষ্টে হারতে হয়েছে। কিন্তু দুটো ম্যাচেই শুরুটা অনবদ্য করেছিল কলকাতার দল। এদিন শুরুতে সেই চনমনে ভাব চোখে পড়ল না। দুই দলই একে অপরকে মেপে নেওয়ার কৌশলে শুরু করে। প্রথম ২০ মিনিট কিছুটা ম্লান ইস্টবেঙ্গল। বল পজেশন মূলত ছিল আল সিবের ফুটবলারদের পায়ে। তবে তেমন কোনও পজিটিভ আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি ওমানের দল। বেশ কয়েকবার বিক্ষিপ্তভাবে লাল হলুদের বক্সে ঢুকে পড়লেও, গোল লক্ষ্য করে শট নিতে পারেনি। ফলে প্রথমার্ধে লাচেনপাকে তেমন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। দলে জাতীয় দলে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার থাকলেও, আল সিবকে তেমন আহামরি দেখায়নি। বরং, ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের ট্রানজিশনের প্রশংসা করতে হবে। বল পায়ে পড়লে দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। মূলত বাঁ দিক থেকেই আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করছিল লাল হলুদ। জয় গুপ্ত, এডমুন্ড, রামিরেজরা বেশ কয়েকবার বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ে। কিন্তু গোলে কোনও শট নিতে পারেনি।
এদিন প্রথম একাদশে তিন বিদেশিকে রেখে শুরু করেন হাবাস। আইএসএলে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করা আকে লোবাকে প্রথম একাদশে রাখেননি হাবাস। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুয়ের আগের ম্যাচে ঘরের মাঠে ডেভিড-এডমুন্ড জুটিকে দিয়ে শুরু করেছিলেন হাবাস। এদিনও দুই ভারতীয় স্ট্রাইকারের ওপর আস্থা রাখেন। প্রথমার্ধে যথেষ্ট ওয়ার্কলোড নেন এডমুন্ড। কিন্তু দুই দলের ক্রিয়েটিভিটির অভাব। বেশ কয়েকটি মিস পাসের পাশাপাশি বক্সের মধ্যে বল ছাড়তে দেরী করার ফলে প্রথমার্ধে গোলের কোনও পজিটিভ সুযোগ পায়নি ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে নির্বিষ ফুটবল বলা চলে। দুই দলেরই অ্যাটাকিং থার্ডে কোনও ঝাঁঝ ছিল না। প্রথম ২০ মিনিট একে অপরকে মেপে নেওয়ার পর, খেলার গতি কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করে দুই দলই। কিন্তু ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবল। বল মূলত মাঝমাঠেই ঘোরাফেরা করে।
গ্রুপ ডিতে চার দলের মধ্যে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে দুই দল। পরের পর্ব যেতে জয় ছাড়া কোনও গতি ছিল না দু'দলেরই। কিন্তু ম্যাচের দীর্ঘ সময় ধরে সেই তাগিদ চোখে পড়েনি। ইস্টবেঙ্গলের সেরা সুযোগ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ফাঁকায় পেয়েও বাইরে মারেন এডমুন্ড। সুযোগ পায় আল সিবও। ওয়ান টু ওয়ান পরিস্থিতি মিস করেন অ্যাক্সেল মেয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা অনেকটা ওপেন হয়ে যায়। ম্যাচের ৫২ মিনিটে বিপিনের ক্রস ক্রসপিসে লাগে। গত তিন বছর ওমান প্রো লিগের চ্যাম্পিয়ন আল সিব। গত মরশুমে মাত্র একটি ম্যাচে হারে। কিন্তু এদিন খেলাতে তার প্রতিফলন ছিল না। আনোয়ার এবং জিভুলিচের মধ্যে এখনও বোঝাপড়া পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। যার ফলে বেশ কয়েকবার সমস্যা তৈরী হয়। কিন্তু বিপদ ঘটেনি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে আকে লোবাকে নামান হাবাস। আগের দিন যে ফর্মে ছিলেন, আরও কিছুক্ষণ আগে নামাতেই পারতেন। নামেই শরীর কাজে লাগিয়ে বার দুয়েক আক্রমণে সাহায্য করেন লোবা। কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। ম্যাচের ৭৯ মিনিট সুযোগ পায় ওমানের ক্লাব। মালকির হেড বাইরে যায়। তার এক মিনিটের মধ্যে গোল পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। রশিদের পাস থেকে বিপিনের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচায় আল সিবের গোলকিপার। শেষদিকে মরিয়া আক্রমণে যায় ওমানের দল। কিন্তু হাবাসের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। স্প্যানিশ কোচের বরাবরই রক্ষণ সংগঠনের জন্য সুনাম রয়েছে। এদিন সেটাই বজায় থাকল। ম্যাচের শেষ মিনিটে হাসানের শট পোস্টে লাগে। তার এক মিনিটের মধ্যে জাহিদের শট বাঁচায় লাল হলুদের গোলকিপার লাচেনপা।
