চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১১ সদস্য রয়েছেন। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক করা হয়েছে ৫৬৭ জনকে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার অভিযানের ফলাফল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জানানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৪ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৭৭ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১১ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া পরোয়ানামূলে ১১৬ জন, সাজা পরোয়ানামূলে ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ৫২ জনের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী এবং ৫০ জন মাদকসেবী। এ ছাড়া নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদায় করা হয়েছে ১৮ হাজার ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড। এ ছাড়া ৩৭টি মাদক মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ পিস ইয়াবা, ৩৯ কেজি ৬৭৫ গ্রাম গাঁজা, ১২৪ লিটার চোলাই মদ, আট বোতল বিদেশি মদ, ১৬ ক্যান বিয়ার, ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ৭০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় তিনজন, নোয়াখালীতে তিনজন, ফেনীতে দুজন, চট্টগ্রামে একজন, চাঁদপুরে একজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৫৬৭ জনের মধ্যে ৩৮৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক বা জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৮১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ১৯৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১১০ জন, লক্ষ্মীপুরে ৬৮ জন, চাঁদপুরে ৪৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪১ জন, নোয়াখালীতে ৩৯ জন, রাঙামাটিতে ২০ জন, কক্সবাজারে ১৫ জন, ফেনীতে ১২ জন, বান্দরবানে ১০ জন এবং খাগড়াছড়িতে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
