২০১৪ সালে মেরী কমের জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ছবি। বক্সার মেরীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। কিন্তু সম্প্রতি সেই ছবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মেরী কম নিজেই।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘মেরী কম’ ছবিটি বাস্তবের সঙ্গে পুরোপুরি মেলাতে পারেনি বলে দাবি অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সারের। তাঁর বক্তব্য, ছবিতে জীবনের লড়াইয়ের সামান্য অংশই তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনীচিত্র নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, তাঁর জীবনের প্রকৃত সংগ্রামের কথা জানতে হলে পড়তে হবে আত্মজীবনী ‘আনব্রেকেবল’।
লন্ডন অলিম্পিক্সে ২০১২ সালে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন মণিপুরের মেরী কম। তাঁর জীবন নিয়েই ২০১৪ সালে তৈরি হয় ‘মেরী কম’ ছবিটি। পরিচালনায় ছিলেন ওমং কুমার। ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেন প্রিয়ঙ্কা। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিতও হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ‘বিগ বস্ ২০’-র ঘর থেকে বেরনোর কয়েক দিন পরেই নিজের জীবনীচিত্র নিয়ে মুখ খুলেছেন মেরী। ছবিটির দ্বিতীয় পর্ব তৈরি করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও করা হয় মেরীকে। উত্তরে তিনি জানান, আপাতত নতুন করে ছবি তৈরির প্রয়োজন নেই।
তবে ছবিতে দেখানো ঘটনাগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেরী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না, এখন এই ছবির দ্বিতীয় পর্ব তৈরির প্রয়োজন আছে। সকলেই আমার গল্প জানেন। আমার কেরিয়ার এবং জীবন ছবিতে দেখানো হয়েছে, আমার বই ‘আনব্রেকেবল’-এও রয়েছে। কিন্তু জীবনীচিত্রটি বাস্তব ছিল না। গল্পের কিছু অংশ আমার কাছে সত্যি বলে মনে হয়নি। আমার লড়াই আর পরিশ্রমের মাত্র ১০ শতাংশ দেখানো হয়েছিল ছবিতে।”
মেরীর মতে, তাঁর জীবনের কঠিন সময়গুলির কথা জানতে হলে আত্মজীবনী পড়া জরুরি। তিনি বলেন, “বইটি পড়লেই আমার সংগ্রাম এবং পরিশ্রমের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারবেন।” ছবিতে তাঁর জীবনের লড়াই পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি।
মেরী কমের জীবনীচিত্রে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের এক বক্সারের চরিত্রে অন্য অঞ্চলের অভিনেত্রীকে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়ঙ্কা নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁর মনে হয় মণিপুরের বক্সার মেরী কমের চরিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও অভিনেত্রীর অভিনয় করা উচিত ছিল।
