বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানী ঢাকার মহম্মদপুর থানার এক ট্রাকচালকের হত্যা মামলায় এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু। এই মামলায় আরও ৩৩ জনকে আসামি করে বিচার শুরু হল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে ২টিতে ফাঁসি এবং ১টিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আগেই।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মামলায় ফাঁসির পাশাপাশি হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আদালত। এদিকে সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মহম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মহম্মদ হোসেন। তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রিনা বেগম মহম্মদপুর থানায় হত্যার মামলা দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী আধিকারিক মহম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনা-সহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলায় আসামি শেখ হাসিনা-সহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। হাসিনা ছাড়াও আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান
কামাল, সাবেক বিদেশমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক, ছাত্রলিগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু রয়েছেন পলাতক আসামিদের মধ্যে। প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাদেক খান-সহ চারজন একই মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও জামিনে রয়েছেন ১০ জন।
এদিকে ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথমবারের মতো বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান-সহ পাঁচ নেতা। এই মামলায় আওয়ামি লিগ সরকারের প্রাক্তন সাতজন মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা।
প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবে প্রসিকিউশন। মামলায় অপর আসামির তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, প্রাক্তন
কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রাক্তন উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ডা. দিপু মনি। তবে ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দিপু মনি ও আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
