নোবিপ্রবিতে সমাবর্তনের আমেজ, কমল রেজিস্ট্রেশন ফি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দীর্ঘ অপেক্ষার পর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তন ঘিরে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কমিটির সভায় রেজিস্ট্রেশন ফি ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একটি ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অথবা সমমানের দুটি ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাবর্তনের দিন অভিভাবকেরা ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন। অনুষ্ঠান চলাকালে তারা বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে অবস্থান করে স্ক্রিনে সমাবর্তন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য অভিভাবকদের আলাদা করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। তবে ক্যাম্পাসে তাদের নির্বিঘ্নে অবস্থান নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের গাউন সংগ্রহের সময় ‘অভিভাবক পাস’ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসাইন।
তিনি বলেন, “সমাবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে মা-বাবাকে পাশে পাওয়ার আনন্দই আলাদা। সবার জন্য অনুষ্ঠানস্থলে বসার ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলেও অডিটোরিয়ামে স্ক্রিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ দেওয়াটা ভালো উদ্যোগ। এতে আমাদের পরিবারের সদস্যরাও বিশেষ দিনটির আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সমাবর্তন আয়োজনের খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো এবং অভিভাবকদের অনুষ্ঠান উপভোগের সুযোগ দেওয়ায় আয়োজনটি আরও অংশগ্রহণমূলক হবে।
নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করার সম্মতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সমাবর্তনে অংশ নিতে আগ্রহী গ্র্যাজুয়েটদের অনলাইনে নিবন্ধনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন পোর্টাল (https://convocation.nstu.edu.bd) থেকে নিবন্ধন করা যাচ্ছে।
স্নাতক (সম্মান/ইঞ্জিনিয়ারিং), বি.এড ও বি.ফার্ম ডিগ্রির ক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েটরা এ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। তবে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ তালিকার আওতায় থাকছেন না। স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও অন্যান্য ডিগ্রির ক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া PGDLIS-এর ২০১৮ B3 থেকে ২০২৩ B12 এবং PGDIT-এর Spring 2018 থেকে Summer 2024 পর্যন্ত শিক্ষার্থীরাও সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন।
কাউসার/নাঈম
আরও পড়ুন
আড্ডা থেকে গবেষণা, প্রতিযোগিতার মঞ্চে জাককানইবির পাঁচ শিক্ষার্থী
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কথায় আছে 'সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে'। কিন্তু সঙ্গ দোষে যদি গবেষণার বিষয় বেরিয়ে আসে, তাহলে সেই সঙ্গ দোষে ভাসতে অপরাধ কোথায়! এমনই একটি গল্প পাঁচ বন্ধুর একটি গ্রুপের। তারা একইসঙ্গে চায়ের কাপে আড্ডা দেয়। আর সেই চায়ের কাপে আড্ডা দিতে দিতেই বেরিয়ে আসে পাঁচজনের পাঁচটি গবেষণার বিষয়।
সেই পাঁচজন শিক্ষার্থী হলেন শাশ্বত গোলদার, মো. শাকিল আহমেদ, মো. হাসান মিয়া, মো. নূর আলম ঢালী, মো. ইব্রাহীম খলিল আপেল। তারা সবাই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী।
বিইউপি লিটফেস্ট ৯.০ এর অংশ হিসেবে বিইউপি লিটারেচার এন্ড ড্রামা ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত 'ন্যাশনাল স্টুডেন্ট রিসার্চ কনফারেন্স অন কন্টেস্টেড এক্সপ্রেসন্স: ল্যাংগুয়েজ, লিটারেচার এন্ড কালচার ইন দ্য এজ অব ক্রাইসিস' এ পাঁচজনের পাঁচটি গবেষণায় মৌখিক উপস্থাপনার জন্য মনোনীত হয়েছে।
আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালসের (বিইউপি) এফএএসএস ভবনে এই গবেষণা প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।
তাদের গবেষণার পাঁচটি বিষয় হলো ০১) রিকশাচিত্রে ঔপনিবেশিকতামুক্তির ভাষ্য: ঢাকার রিকশাশিল্পে ঐতিহ্যের দ্বন্দ্ব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৃশ্যশিল্পভিত্তিক অভিব্যক্তির স্বাধীনতা- শাশ্বত গোলদার। ০২) গাজীর গানে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বিতর্কিত অভিব্যক্তি: টাঙ্গাইলের একটি গানের দলের উত্তর-ঔপনিবেশিক পরিবেশনা বিশ্লেষণ- শাকিল আহমেদ। ০৩) মাতৃসূত্রীয় সমাজব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস: শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সমতলের গারো জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতা ও পারিবারিক সংগঠন- হাসান মিয়া। ০৪) পটের সঙ্গে পথচলা: বাংলাদেশের শ্যামনগরে জলবায়ুজনিত স্থানান্তর এবং গাজীর গান ও পটুয়া সম্প্রদায়ের পটচিত্রের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা- নূর আলম ঢালী। ০৫) সংযমের পরিবেশনা: বাংলাদেশের সুন্দরবনের বননির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বনবিবির পালা এবং বনসম্পদ ব্যবহারের নৈতিকতার সমন্বয় ও দর-কষাকষি- ইব্রাহীম খলিল আপেল।
তাদের গবেষণা পত্রে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা চিত্র থেকে গাজীর গান, গারো মাতৃসূত্র থেকে পটচিত্র, সুন্দরবনের বনবিবির পালাসহ বাংলার ঐতিহ্যের অনেক বিষয়াদি উঠে এসেছে।
রাফি/অন্তরা
আরও পড়ুন
রাকসুর ১ বছর: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফিরে এসেছিল শিক্ষার্থীদের কাছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ঘিরে প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘমেয়াদি। আবাসনসংকট, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, হলের খাবার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ছাত্র সংসদ–এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। গত বছর ২৬ অক্টোবর শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক বছরের কার্যক্রম শুরু হয়। সে হিসাবে আজ সোমবার শেষ হচ্ছে রাকসুর মেয়াদ। এই মেয়াদ শেষের প্রান্তে এসে রাকসুর অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যার সমাধান কতটা হয়েছে, সেটিই এখন মূল্যায়নের কেন্দ্রে।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট।’ নির্বাচনের আগে ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজয়ী প্যানেল। দীর্ঘ বিরতির পর ছাত্রসংসদ সচল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছিল নতুন আশা।
দায়িত্ব পালনের শেষ পর্যায়ে এসে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে ইশতেহারে উল্লেখ করা ১০৭টি কাজের প্রায় ৭৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আবাসন সংকট, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাতা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। রাকসুর নেতারা এসব উদ্যোগের কিছু বাস্তবায়নাধীন থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তাদের দাবি, কয়েকটি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাকসুর কার্যক্রমের মধ্যে ছিল বিভিন্ন আয়োজন, মতবিনিময়, স্মারকলিপি প্রদান, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তৎপরতা। তবে এসব আয়োজনে কতটা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন এনেছে, তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দৃশ্যমান কর্মসূচি থাকলেও আবাসন, চিকিৎসা ও পরিবহনের মতো মৌলিক সংকট নিরসনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন, ‘এই সময়ে চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ছিল প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বিমাতাসুলভ আচরণ, যেকোনো কর্মকাণ্ডে অনাকাঙ্ক্ষিত কালক্ষেপণ ও দীর্ঘসূত্রতা। এ ছাড়াও রাকসুর ফান্ড পুরোটা বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।’
ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন হয়েছে, এজন্য আমরা সাংবিধানিক এবং কাগজপত্রের জটিলতায় ছিলাম। তবে বিগত ১৭টি রাকসু নির্বাচনের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। ইশতেহারের অনেক কাজই বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু কাজ চলমান আছে। ইশতেহার অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই প্রতি বছর রাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছি।’
পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে কাজগুলো এড়িয়ে গেছে, সেগুলো আমরা করেছি। কিন্তু নির্বাচন তো প্রশাসনকেই দিতে হবে। সর্বশেষ অধিবেশনে রাকসুর সভাপতি লিখিত সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছেন, তিনি রাকসু নির্বাচনের আয়োজন করবেন।’
এদিকে রাকসু নির্বাচনের পর থেকেই বছরজুড়ে এই প্ল্যাটফর্মটির নেতৃত্বকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, কিছু কর্মসূচি ও আয়োজন দৃশ্যমান হলেও তাদের দৈনন্দিন সংকটের বড় পরিবর্তন আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী দাবি করে সংঘর্ষ ও এ ঘটনার জেরে সাংবাদিকদের ভিপির হুমকিকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। এ ছাড়া রাকসুর বিভিন্ন আয়োজনে জামায়াত ও শিবিরের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও লক্ষণীয় ছিল।
অন্যদিকে রাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে সব সময় সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন। আম্মার বলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল–আমি শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করব। সেই কাজ করতে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি। মেস ভাড়া, খাওয়ার খরচ, চিকিৎসার টাকাসহ বিভিন্ন খাতে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২০ লাখ টাকার একটি এফডিআর করে যাব শিক্ষার্থীদের জন্য। এগুলো আমার মৌলিক অঙ্গীকার ছিল। আমরা ৫-৬ মাস পর কাজ করা শুরু করেছি। কারণ কোনো কাগজ ছিল না, কীভাবে কাজ করতে হয় বুঝতাম না।’ সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা হবেই। কিন্তু এই সমালোচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা বন্ধ রাখব না।’
পুনরায় রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোষাধ্যক্ষের কাছে আগামী নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছেন রাকসু সভাপতি। আগামী নির্বাচন হতে হবে। না হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সার্বিক বিষয়ে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসুর কার্যক্রমের বিবেচনা আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের ওপরই ছেড়ে দিই। কারণ তারাই ভোটার, মূল ধারক। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলাদা কোনো মন্তব্য থাকা উচিত বলে মনে হয় না।’
নতুন করে রাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে সব সময় আন্তরিক। পরবর্তী নির্বাচন পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অনুষ্ঠিত হবে।’ দলীয় প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দলীয় প্রভাবে নিইনি। আগামীতেও নেব না। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট।’
আরও পড়ুন
কুনমিংয়ে চীন-দক্ষিণ এশিয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু, সহ-আয়োজক এনএসইউ
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সভ্যতার সংলাপ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চীনের কুনমিংয়ে শুরু হয়েছে ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া সভ্যতা ও যোগাযোগবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন’।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের যৌথ আয়োজক চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।
চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডংলু ক্যাম্পাসে শনিবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছেন।
‘বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি, সবার জন্য ঐক্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে সভ্যতার পারস্পরিক বোঝাপড়া, আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনটির আয়োজন করছে সেন্টার ফর চায়না-সাউথ এশিয়া সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (সিএসএসসিএস)। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এথনোলজি অ্যান্ড সোসিওলজি এবং এনএসইউর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্র চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। আয়োজক সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার এথনিক মাইনরিটি স্টাডিজ।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় এনএসইউতে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই আয়োজন চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাবিদদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও গবেষণা সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় এবার কুনমিংয়ে দ্বিতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মা ওয়েনহুই বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের সভ্যতাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় চলে আসছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষণায় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার আঞ্চলিক ও অ্যাকাডেমিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও এনএসইউর মধ্যে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৬ সালে এনএসইউতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কের সূচনা হয়। পরে ২০২৩ সালে চীন-দক্ষিণ এশিয়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে এ সহযোগিতা ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় ছাড়িয়ে আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ ও ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি অধ্যাপক ইয়াং শাওজুন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে সই করেন। একই অনুষ্ঠানে নৃতত্ত্ব বিষয়ে যৌথ ‘২+১+১’ স্নাতক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা পর্বে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিং জুন বৈশ্বিক দক্ষিণের দৃষ্টিকোণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এনএসইউর সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের পরিচালক অধ্যাপক এসকে তৌফিক এম হক একবিংশ শতাব্দীতে চীন-দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনা ও কাঠামোগত বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করেন।
এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও মানবিক নিরাপত্তা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হে মিং চীনা সমাজবিজ্ঞানী ফেই শিয়াওতংয়ের দর্শনের আলোকে দুই অঞ্চলের সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষা ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনের পরবর্তী দুই দিনে সাতটি সমান্তরাল অধিবেশনে গবেষকেরা তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
এসব অধিবেশনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, অবকাঠামোগত যোগাযোগ, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের জ্ঞান উৎপাদন ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো বিষয় আলোচিত হবে। গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অ্যাকাডেমিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
বিজ্ঞপ্তি/
আরও পড়ুন
প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরশে নোবিপ্রবির নীলদীঘি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১০১ একর ক্যাম্পাসের চিরচেনা এক নিঝুম ঠিকানা ‘নীলদীঘি’। মূলত এটি ঘাট বাঁধানো একটি পুকুর হলেও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় পরিচিতি পেয়েছে দীঘি হিসেবে। একাডেমিক ভবন-৩ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে অবস্থিত এই জলাধারটি যেন ক্যাম্পাসের এক নীলাভ স্বস্তির কেন্দ্র। চারপাশে নারিকেলগাছের সারি ও সবুজ গাছপালা মৃদু বাতাসে শান্ত পরিবেশ তৈরি করে।
ক্লাস, পরীক্ষা আর গবেষণাগারের ব্যস্ততা শেষে শিক্ষার্থীরা একটু স্বস্তির খোঁজে ছুটে আসেন নীলদীঘির পারে। দলীয় আলোচনা, পাঠচক্র ও সাংগঠনিক বৈঠকের জন্য এটি এক জনপ্রিয় স্থান। সকালে পরিবেশ শান্ত থাকলেও বিকেলে জমে ওঠে তরুণদের প্রাণবন্ত আড্ডা। বাতাসে সুরের মূর্ছনা, দূর থেকে আসা পাখিদের কিচিরমিচির আর প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঘাটগুলো হয়ে ওঠে মুখরিত। রাতে জোছনার আলোয় বন্ধুদের নৈশ আড্ডারও সাক্ষী এই দীঘি।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে নীলদীঘির রূপেও আসে নতুনত্ব। গ্রীষ্মের দাবদাহে শিক্ষার্থীদের সাঁতার কাটার আনন্দ কিংবা শীতে ছোটখাটো বারবিকিউ উৎসব– সবখানেই রয়েছে নীলদীঘির ছোঁয়া। শুধু শিক্ষার্থীরা নন, অবসর সময়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও আসেন এই দীঘির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে।
নোবিপ্রবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছে এই জলাধার। হাজারো শিক্ষার্থীর স্মৃতি, আড্ডা আর স্বপ্নের গল্প বুকে ধারণ করে নীলদীঘি প্রতিনিয়ত নতুন প্রাণ যোগ করছে ক্যাম্পাসজীবনে।
