ক্যাম্প ন্যুতে এল ক্লাসিকোর লড়াইয়ে শেষ হাসি রিয়াল মাদ্রিদের। দুই অর্ধে এমবাপ্পের দুই গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ব্যবধান কমিয়েছে জোসে মরিনিয়োর দল। অন্যদিকে, লিগে টানা নয় জয়ের পর থামল বার্সেলোনার জয়রথ।
রোববার রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে বহু প্রতিক্ষিত ‘এল ক্লাসিকো’ লড়াই। ৪১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় রিয়াল। ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন বার্সার জেরার্ড মার্টিন। তাঁর গায়ে লেগে বল চলে যায় এমবাপ্পের কাছে, সেখান থেকে জালে। বার্সেলোনার বিপক্ষে এটি ছিল ফরাসি ফরোয়ার্ডের ১১ ম্যাচে ১৩তম গোল।
গোল হজমের পর দ্রুত জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু পেদ্রির পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি লামিনে ইয়ামাল। বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও তৈরি করেছিল রিয়াল, তবে ব্যবধান আর বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার জন্য চাপ বাড়ায় বার্সেলোনা। ৬১ মিনিটে পেদ্রির নিখুঁত পাস ধরে বক্সের ভেতর থেকে শটে গোল করেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকেরা।
সমতায় ফেরার পর আরও উজ্জিবিত দেখাচ্ছিল বার্সেলোনাকে। বার্সার আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রিয়ালের রক্ষণভাগ। ৬৬ মিনিটে জেরার্ড মার্টিনের হেড থেকে আসা বল দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন। ইনজুরির কারণে থিবো কোর্তোয়া না থাকায় একাদশে সুযোগ পাওয়া ইউক্রেনীয় গোলরক্ষকের এই সেভ ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখে।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ব্যবধান গড়ে দেন এমবাপ্পে। ৮৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার পাস থেকে ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি তারকা। রিয়ালের জার্সিতে এটি এমবাপ্পের ১০০তম গোল। শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা।
পরিসংখ্যানে বল দখল ও পাসে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনাই। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ৬৩ শতাংশ সময়; রিয়ালের ৩৬২টির বিপরীতে পাস খেলেছে ৬৪৩টি। গোলের উদ্দেশ্যে শটও বেশি নিয়েছে স্বাগতিকেরা—১৬টি, রিয়ালের ৯টি। কিন্তু পর্যাপ্ত গোল আদায়ে ব্যর্থ বার্সা।
এই জয়ে ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, আর ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। এল ক্লাসিকোর জয় শুধু রিয়ালকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, শিরোপার লড়াইও আরও জমিয়ে তুলেছে।
