সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কালীজানা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় ৩০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ভেঙে পড়েছে রেলিংয়ের অংশ এবং একাংশ হেলে গেছে। এতে এলাকার প্রায় ১২টি গ্রামের ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না পেরে অনেকে নৌকা কিংবা সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলবরষ ইউনিয়নের কালীজানা নদীর ওপর ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ভেঙে যায় দুই পাশের রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুর দুই পাশের সড়কের মাটি সরে গিয়ে কাঠামোটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেতুর একটি অংশ হেলে পড়েছে।
গত রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ের ভাঙা অংশ সেতুর ওপর পড়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়কেও মাটি নেই। যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গাবী গ্রামের মোশারফ মিয়া ও নূর মিয়া এবং মির্জাপুর গ্রামের সোহেল মিয়া ও তাজ্জত আলীসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, নির্মাণের শুরুতেই ঠিকাদার নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় সেতুটি বেশিদিন টেকসই হয়নি। গত ৩০ বছর ধরে সেতুটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
শিংপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক মো. ইসলাম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, বিরিজডা ইভাবে পইরা থাকলেও ঠিক করনের লাইগ্যা কেউ খবর লয়না। অহন ইডার উফর দিয়া চলাচল করন যায় না। এই বিরিজডা ভাইঙ্গা কহন যে এইহানে একটা নতুন বিরিজ অইবো, তা ওপরওয়ালাই ভালো জানেন।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ইউনিয়নের গাবী, শরিশ্যাম, মির্জাপুর, বাহিরকান্দা, নয়াপাড়া, আহম্মদপুর, সৈয়দপুর, মুদাহরপুর, শিংপুর, বগারপাচুর, খয়েরদিরচর ও ভাটকপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের যোগাযোগের সহজ পথ ধর্মপাশা মহাসড়ক হয়ে বারহাট্টা ফাঁড়ি সড়ক পর্যন্ত। এ সড়কের মাঝামাঝি কালীজানা নদীর ওপর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে টুকিটাকি সংস্কার করা হলেও সেতুটি চলাচলের উপযোগী হয়নি। এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় কাজে বাদশাগঞ্জ অথবা বারহাট্টার কাকুড়া বাজার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, সেতুটি এভাবে পড়ে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
