৫৪-য় পা রবীনা টন্ডনের। কিন্তু প্রৌঢ়ত্বেও যৌবনের ছাপ দেখা যায় ত্বকে ও চেহারায়। তাঁর ফিটনেসের মূলমন্ত্র কিন্তু কেতাদুরস্ত ডায়েট বা কৃচ্ছ্রসাধন অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠোর শারীরচর্চা নয়। বরং অত্যন্ত সাদামাঠা যাপনই তাঁর নেপথ্য রহস্য।
রবীনার জন্মদিনে পুরনো সাক্ষাৎকার ঘেঁটে জানা যেতে পারে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের কথা। ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁর পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে ডাল, সব্জি ও দইয়ের মতো পরিচিত পদ। শারীরচর্চার ক্ষেত্রেও ভারী ওজন তোলার বদলে সাঁতার, যোগাসন, হাঁটা ও দৌড়ের মতো অভ্যাসেই বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি। অর্থাৎ, ফিট থাকার জন্য সব সময়ে জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। বরং নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলাই তাঁর জীবনযাপনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কী খেয়ে ফিট থাকেন রবীনা? ছবি: সংগৃহীত
সুপারফুডের বদলে ডাল, তরকারি, সঙ্গে ঘরে বানানো ঘি এবং ঘরে পাতা টক দই— রবীনার পাত এ সমস্ত খাবারেই ভরা থাকে। কখনও কখনও ডাবের জলও পান করেন অভিনেত্রী। ডাল থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন পাওয়া যায়, সব্জি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার জোগাতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, দইয়ে থাকে উপকারী জীবাণু, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে, ও দিকে ঘি থেকে মেলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। রবীনার কথায়, ‘‘খুব সাধারণ খাবার খাই। যেমন দুপুরে ডাল, তরকারি, টক দই। এই খাবারই আমি রোজ খাই। আর আমি খেয়াল রাখি, পেট যেন ভর্তি থাকে সর্বদা।’’
রবীনা বলেন, ‘‘আমরা বাড়িতেই ঘি বানিয়ে খাই। আর চেষ্টা করি কার্বোনেটেড পানীয় না খেতে এবং সন্তানদেরও না খাওয়াতে। আর এমন পানীয়, যাতে প্রচুর চিনি মেশানো থাকে, সেগুলিও খাওয়া বারণ আমাদের বাড়িতে। আমাদের ক্ষেতেই হলুদ তৈরি হয়। সেই হলুদ দিয়ে কাড়া বানিয়ে ছেলেমেয়েকে খাওয়াই। অল্প জোয়ান, হলুদ, লবঙ্গ, গোলমরিচ আদা দিয়ে ফুটিয়ে তার পর অল্প ঘি দিয়ে পানীয় বানিয়ে খাওয়ানো হয়।’’
জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় না কাটিয়ে সাঁতার কাটা, মাসাজ নেওয়া, কার্ডিয়ো করা, যোগাসন, হাঁটাহাঁটি, দৌড়োনো ইত্যাদি করেই ফিট থাকার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। রবীনার মতে, তাঁর শরীরী গঠনে ভারোত্তোলনের বদলে এই সমস্ত ব্যায়ামই বেশি কার্যকর।
