মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর। জ্ঞানেশের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার হলফনামা দিয়ে জবাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের হলফনামার জবাব দিতে ১০ দিন সময় চেয়েছিলেন মামলাকারীর আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য অভিযোগগুলি নিয়ে কমিশনের মতামত জানতে চেয়ে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ, ফর্ম ৬-এ নিয়ম বদল এবং একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ— এ রকম বেশ কয়েকটি বিষয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সেই মামলাগুলি একত্রিত করে মঙ্গলবার শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যে হলফনামা জমা দেয় কমিশন, সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের জুন, ২০২৫ সালের অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে এসআইআর নিয়ে যে তিনটি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দুই কমিশনারের মতবিরোধের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগও খণ্ডন করেছে কমিশন। পাশাপাশি, ফর্ম ৬ সংশোধনের অভিযোগও খারিজ করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন সংশোধন করার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসেন জ্ঞানেশ। তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল বিরোধী দলগুলি। পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হয়। তাতে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভোটারের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত একতরফা ভাবে নিচ্ছেন জ্ঞানেশ। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সধুঁ ও বিবেক জোশীর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে না। এমনকি, তাঁরা একাধিক সিদ্ধান্তে বার বার আপত্তি জানালেও কর্ণপাত করা হয়নি। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর জ্ঞানেশের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন জোরদার করে বিরোধী শিবির। মমতার দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
এ ছাড়াও ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে পৃথক আবেদন করেছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। সেই আবেদনেও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বাকি দুই কমিশনারকে।
