প্রহ্লাদ দাসের ফাইল ছবি।সৌজন্যে: এই সময়
Published on
:
2 min read
একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল ছেলের। পুলিশের এনকাউন্টারে সেই ছেলের মৃত্যুর পরে মুখ খুললেন বাবা, মা। বললেন, ‘ও অন্যায় করেছে, সাজা পেয়েছে।’ উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার প্রহ্লাদ দাস। এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এক পুলিশ কর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় প্রহ্লাদ।
বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে প্রহ্লাদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। সেই হাসপাতালেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রহ্লাদের মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ও অন্যায় করেছে, ওর কঠোর শাস্তি হোক। কিন্তু আমি এটা বলিনি যে ওকে এনকাউন্টার করে দিক। রাত ২টোর সময়ে স্যররা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলাল। কী সব লিখল। তার পরে ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ স্যর বাড়িতে গেল। বলল ঠাকুরনগর হাসপাতালে যেতে হবে। আপনার ছেলেকে এনকাউন্টার করা হয়েছে। আমি জানতে চাইলাম কেন? বলল, ও পালাতে যাচ্ছিল। কী করে পালায় ছেলে এত গার্ড থাকতে? যাক গে ভালো করেছে! ও অন্যায় করেছে সাজা পেয়েছে।’
এক নজরে
গাইঘাটার ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।
পুনর্নির্মাণের সময়ে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।
বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নিহত প্রহ্লাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
‘ও অন্যায় করেছে, সাজা পেয়েছে’ — মা হিসেবে দুঃখ পেলেও নাগরিক হিসেবে এমন পরিণতিতে খুশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রহ্লাদের মা।
ছেলের অপরাধ ও তার পরিণতি নিয়ে বাবাও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে অন্যায় করার জন্যই সে উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে।
প্রহ্লাদের মা আরও জানান, মা হিসেবে তিনি এই ঘটনায় খুশি না হলে একজন নাগরিক হিসেবে খুশি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে থাকলেও আমি তাই করতাম। ভবিষ্যতে কোনও পুরুষ এরকম করার আগে যেন ভাবে।’ চোয়াল শক্ত, তবে চোখের জল আটকাতে পারেননি। হাজার হোক তিনি তো মা। একই কথা প্রহ্লাদের বাবারও। ছেলে অন্যায় করেছে। শাস্তি পেয়েছে। কিছুই বলার নেই তাঁর।