Published on
:
2 min read
এই সময়: উচ্চশিক্ষার দুনিয়ায় পড়াশোনার চাপ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে পড়ুয়াদের। সুপ্রিম কোর্টের তৈরি ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সমীক্ষায় উঠে এল এমনই উদ্বেগজনক ছবি। ওই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষা নেওয়া পড়ুয়াদের ৯ শতাংশের মনে গত এক বছরে বার বার আত্মহত্যার চিন্তা এসেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা নিজেরাই। আবার, ৩৪ শতাংশ পড়ুয়া মনে করেন, নিজেদের ক্যাম্পাসে তাঁরা বিচ্ছিন্ন বা বহিরাগত। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক ভাবে সুস্থ রাখা ও তাঁদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে এই সমীক্ষা নতুন করে সামনে এনেছে বলে শিক্ষা মহলের অনেকেরই অভিমত।
প্রায় ২ লক্ষ ৪৩ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই সমীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁদের মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ এবং কাউন্সেলিংয়ের সুযোগের অভাবের মতো বিষয়গুলি উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের একাংশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। প্রায় ১৫ শতাংশ পড়ুয়া গত ছ'মাসে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে সমীক্ষায় যোগদাতাদের নমুনা দেশের সকল উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের পড়ুয়ার প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই, এই পরিসংখ্যানকে সার্বিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত ছবি হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেই টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা জানাচ্ছেন।
পড়ুয়াদের মানসিক চাপের পিছনে বেশ কয়েকটি কারণের ইঙ্গিত মিলেছে সমীক্ষায়। পড়াশোনার বিপুল চাপ, পরীক্ষায় ভালো ফল করার প্রত্যাশা, সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে, ক্যাম্পাসে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের কাছ থেকে সাহায্য না–পাওয়ার বিষয়টিও এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৩২ শতাংশ পড়ুয়া জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া টাস্ক ফোর্স। জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য, যৌন হেনস্থা এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না–পাওয়ার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। গবেষণারত পড়ুয়াদের একাংশ তাঁদের গবেষণার তত্ত্বাবধায়কদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের জন্য সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিয়মিত কাউন্সেলিং, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং সহমর্মিতাপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু পড়াশোনা ও রেজ়াল্টের দিকেই নয়, পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সমীক্ষকরা। এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্টটি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আগামী ৩১ অক্টোবর জমা পড়তে পারে বলে সূত্রের খবর।
