পাবনার ঈশ্বরদীর হাট-বাজারে শীতের আগাম সবজি বাজারে। তবে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম চড়া।
চাহিদা থাকলেও শীতের আগাম সবজির দাম চড়া জানিয়েছেন ক্রেতারা। দামের কারণে অনেকে চাহিদামতো সবজি কিনতে পারছেন না। সাধারণ ক্রেতারা জানিয়েছেন অনেক দিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। আয় বাড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শীতের আগাম সবজির দাম বেশি হলে তারা কীভাবে চলবেন? এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
ঈশ্বরদী শহরের প্রধান বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম প্রতি কেজি ১২০, ফুলকপি ৮০ থেকে ৯০, বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০, বেগুন ৬০ থেকে ৭০, টমেটো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো ছাড়াও কাঁচাবাজারে এক কেজি করলা ৮০, গাজর ৬০, শসা ৫০, ঢ্যাঁড়শ ৪০, বরবটি ৪০, পটোল ৪০, ঝিঙা ৪০, কচু ৪০, মুলা ৪০, পেঁপে ৩০, পেঁয়াজ ৪৫, রসুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত রবিবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের কাঁচাবাজার ঘুরে সবজির এমন চড়া দামের তথ্য জানা গেছে। তবে সবজি বিক্রেতারা বলছেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ কম, তাই দাম একটু বেশিই থাকে। শীত মৌসুমের সব ধরনের সবজির সরবরাহ যখন বেশি থাকবে তখন দাম কম হবে।
সবজি ক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি বাজারে। কেনার ইচ্ছায় দাম জিজ্ঞেস করে থমকে যাই। অস্বস্তিবোধ করি। তারপরও শুধু ফুলকপি কিনতে হলো। দ্বিতীয়টা কিনতে পারলাম না। এত দাম বেশি হলে মনের মতো ব্যাগ ভরে বাজার করা হয় না। আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদীতে প্রচুর পরিমাণে সবজি উৎপাদন হয়, কিন্তু দাম এত বেশি কেন, বুঝতে পারি না।
সবজি ক্রেতা আলম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, শীতের আগাম সবজি বাজারে এসেছে। কিন্তু চাহিদামতো কিনতে পরছি না। দাম বেশি থাকার কারণে এটা হয়েছে। আবার একই বাজারে একটি সবজির ভিন্ন দাম। সরকার থেকে কেউ এসে বাজারে সবজি কত করে বিক্রি হচ্ছে তা দেখতে বা নজরদারি করতে আসছেন না। এলে ভালো হতো।
বাজারের সবজি বিক্রেতা আমিন উদ্দিন বলেন, শীতের সবজি বাজারে আসতে আরও দেড়-দুই মাসের মতো দেরি। এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি। সরবরাহও কম। তাই দাম একটু বেশি। শীত মৌসুমের সবজি বাজারে আসা শুরু হলে সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে। তখন মানুষ ইচ্ছেমতো সবজি কিনতে পারবে।
বিক্রেতা সাজ্জাদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, এখন যে পরিমাণে চাহিদা আছে তার তুলনায় বাজারে কম সবজি আসছে। আমরা যে দামে কিনছি খুব সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। তাতেই দাম বেশি হচ্ছে।
বাজারে পাইকারি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করতে এসেছেন কৃষক জাহাঙ্গীর ইসলাম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, অনেকে শীতের আগাম সবজি কিনতেও চাচ্ছেন। কিন্তু এখনো সব সবজি বিক্রি করার মতো হয়নি। যা হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি। এবারে সবজি উৎপাদন খরচ বেশি। তাই পাইকারি দামও বেশি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বাধ্য হয়েই খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
চাষি কুদ্দুস আলী খবরের কাগজকে বলেন, আমি মাঠ থেকে সবজি নিয়ে হাটে এসেছি। এখানে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি দামে কিনে নিচ্ছে। এবার গতবারের তুলনায় চাষের খরচ বেশি হয়েছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি পড়ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সবেমাত্র শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা শীতের সবজির চারা লাগানো শেষ করেছে। আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শীত মৌসুমের টাটকা সবজি বাজারে আসবে।
কৃষি অফিস জানায়, এবার ঈশ্বরদীতে ৬ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ রয়েছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে লক্ষ্মীকুন্ডা, সাহাপুর ও ছলিমপুর ইউনিয়নে সবজির আবাদ বেশি। তবে মুলাডুলি ইউনিয়নে শিমের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। ঈশ্বরদীতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, লাউ, শসা, টমেটো, বরবটি, লাল-সবুজ শাক, শালগম, মুলা, ধনিয়া পাতা ইত্যাদির আবাদ হয়ে থাকে। শীতকালীন সবজি আবাদের সময় মাঠে মাঠে কৃষকরা বেশি ব্যস্ত সময় কাটান।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৬ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লাভ থাকায় ইতোমধ্যে অনেক কৃষক শীতের আগাম সবজি হাট-বাজারে বিক্রিও করছেন। সবজি আবাদ করে এখানকার অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ঈশ্বরদীতে প্রতিবছর সবজির আবাদ বাড়ছে এবং সব ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সবজি আবাদে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, তবে এবার চাষের খরচ বেড়েছে। তাই পাইকারি সবজির দাম বেশি। বেশি দামে কিনে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আব্দুল মমিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে চাষের প্রায় সব কিছুর দাম বেশি। তাই চাষের খরচ বেড়েছে। তারপরও সরকার বিভিন্নভাবে কৃষকদের সহায়তা করছে।
