দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই কালীপুজো, দীপাবলি। আলোর উৎসব। নতুন করে ঘর সাজানোর তোড়জোড়। তবে অনুষ্ঠান, পার্বণে ঘর সাজানো মানেই কিন্তু প্রতি বছর নতুন নতুন জিনিস কিনে খরচ বাড়ানো নয়। কুশন কভার, টেবিল রানার, শৌখিন ট্রের মতো ছোটখাটো কিছু জিনিস বদলালেই পুরো ঘরের রূপ বদলে যায়—আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না। কোন ধরনের জিনিস কিনে রাখলে অতিথির আগমনে কিংবা উৎসবে সুন্দর করে ঘর সাজানো যাবে?
শৌখিন বাতিদান এবং এলইডি মোমবাতি
শৌখিন মোমবাতি দিয়েও ঘর সাজানো যায়। ছবি:সংগৃহীত।
দীপাবলি বা যে কোনও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সুন্দর বাতিদানে থাকা মোমবাতির আলো ঘরে স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে। পিতল, কাচে, কাঠ বা সেরামিকের আধুনিক নকশার বাতিদান খাওয়ার টেবিল কিংবা কফি টেবিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে। আগুনের ঝুঁকি এড়াতে চাইলে এলইডি মোমবাতি ব্যবহার করতে পারেন।
ফুলের সাজ
টাটকা ফুলের কোনও বিকল্প হয় না। মরসুম অনুযায়ী ফুল বাছাই করে ঘর সাজালে অন্দরের পরিবেশটাই বদলে যায়। পাশাপাশি, ভাল মানের কৃত্রিম ফুল দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। একটি সেরামিক ফুলদানিতে পাতা-সহ ফুল সাজিয়ে ডাইনিং টেবিল, সোফার সামনে রাখা কফি টেবিলে রাখতে পারেন। হালকা রঙের ফুল যে কোনও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যায়। আবার উজ্জ্বল রঙের সঠিক ব্যবহার উৎসবের আবহকে বদলে দেয়।
শৌখিন ট্রে
নকশাদার খাবার পরিবেশনের ট্রে এবং কাচের বয়াম উৎসবের সময়ে টেবিলকে আকর্ষণীয় করে তোলে। শৌখিন কিছু ডিনার সেট কিনে রাখুন। অতিথি আপ্যায়নে পানীয় ও স্ন্যাক্স পরিবেশনের সময়ে এগুলি কাজে লাগান। অন্দরসজ্জার সঙ্গে মানানসই হবে।
নকশাদার ওয়াল প্লেট
শৌখিন থালা দিয়েও সাজিয়ে নিতে পারেন দেওয়াল। ছবি:সংগৃহীত।
ঘরের দেয়ালকে আকর্ষণীয় করে তোলার চমৎকার উপায় হল ডেকরেটিভ ওয়াল প্লেট। খাওয়ার বা বসার ঘরের দেয়ালে ফুলের নকশার বা আধুনিক নকশার থালা ঝুলিয়ে দিতে পারেন। একসঙ্গে ২-৩টি প্লেট কায়দা করে সাজিয়ে দিলে দারুণ দেখায়। অন্দরসাজে অন্য মাত্রাও যুক্ত হয়।
টেবিল ল্যাম্প এবং আলোকসজ্জা
টেবিল ল্যাম্প শুধু উৎসবরের মরসুমে নয়, যে কোনও সময় অন্দরের শোভা বৃদ্ধি করতে পারে। ছবি:সংগৃহীত।
পুরো ঘরের সাজবদল না করেও কেবল আলোর বিন্যাস বদলে ঘরের আবহ পরিবর্তন করা সম্ভব। খাওয়া এবং বসার জায়গায় এমন আকর্ষণীয় আলো ব্যবহার করতে পারেন। অন্য দিকে, বসার ঘর বা শোয়ার ঘরে মৃদু আলো ছড়িয়ে দিতে রকমারি ল্যাম্প শেড বা সিলিং থেকে ঝুলন্ত এলইড আলো বেছে নিতে পারেন। এমন নকশা বেছে নিন যা নির্দিষ্ট কোনও উৎসবের নয়, বরং রোজকার ঘরের সাজের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়।
নকশা করা পাপোস
প্রবেশদ্বারের সঙ্গে মানানসই এবং টেকসই এমন নকশার পাপোস বাছুন, যা উৎসবের পরেও নিয়মিত ব্যবহারে নষ্ট না হয়। যা সারাবছরই ব্যবহার করা যাবে। দেখতেও ভাল লাগবে।
