বরেণ্য সংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় সংগীত, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে ছাত্রপক্ষ জানায়, আব্বাসউদ্দীন আহমদ বাংলা সংগীত ও উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম। ভাওয়াইয়া, পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, ইসলামী গান ও নজরুলসংগীতে তার অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদসহ তার গাওয়া অসংখ্য গান বাংলার মানুষের জীবন, আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে।
সংগঠনটির মতে, আব্বাসউদ্দীন আহমদের সংগীতচর্চা প্রমাণ করে, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য কোনো সংকীর্ণ পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও জীবনবোধের সম্মিলিত প্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহু বিখ্যাত গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি কবি জসীমউদ্দীন ও গোলাম মোস্তফার রচিত ইসলামী ভাবধারার গান পরিবেশন করে বাংলা সংগীতের বহুমাত্রিকতাকে সমৃদ্ধ করেছেন আব্বাসউদ্দীন।
ছাত্রপক্ষ মনে করে, একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ঐতিহাসিক চেতনাকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা অপরিহার্য। তাই কালজয়ী শিল্পীদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশীয় সংগীত, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আব্বাসউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা সংগীতের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা, চর্চা করা এবং তা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
