BJPছবি: Facebook
Published on
:
2 min read
এই সময়, হলদিয়া: টেন্ডার কমিটিকে না জানিয়ে স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য বালি সরবরাহ করা হচ্ছে। ৯৫ হাজার টাকার কাজের 'ওয়ার্ক অর্ডার'ও দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ তুলে সরকারি কাজে দলীয় পঞ্চায়েত প্রধানের 'স্বেচ্ছাচারিতা' নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সহ বিজেপির সদস্যরা। বিজেপি পরিচালিত মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। যদিও কোনও বেআইনি কাজ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান শুভ্রা পণ্ডা।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কেশবপুর আর্ট ময়দান বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বালি ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ইতিমধ্যে সেই কাজ অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু সেই কাজ বেআইনি ভাবে করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পঞ্চায়েতের বিরোধী তৃণমূল শিবির থেকে বিজেপির বেশ কয়েকজন নির্বাচিত সদস্য। স্থানীয় মাগুরি মিলনতিথি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও বালি ফেলে মাঠ ভরাটের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও স্থানীয় বিজেপি নেতা পরেশ পাণিগ্রাহী।
তিনি বলেন, 'প্রধান আমাদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করে টেন্ডার কমিটির ছাড়পত্র না নিয়েই নিজের ইচ্ছায় বালি ফেলার টেন্ডার দিয়েছেন। আমরা এমন বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি।'
প্রধানের যুক্তি, 'সরকারি নিয়ম মেনে যে ভাবে কাজ করার কথা সেই ভাবেই কাজ হচ্ছে। যারা উন্নয়নের বিরোধী, তারাই কাজে বাধা তৈরির চেষ্টা করছে।' অমৃতবেড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নের কাজ অনেকটা পিছিয়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি। এই পঞ্চায়েতের অধীন রূপনারায়ণ নদের মায়াচর দ্বীপের বাসিন্দাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পড়ে নষ্ট হচ্ছে। প্রধানের অবহেলার কারণেই এটা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
সাংসদ থাকাকালীন দিব্যেন্দু অধিকারীর সাংসদ তহবিলের টাকায় মায়াচর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও সেই অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য মনোজ জানা বলেন, 'মায়াচর দ্বীপে অ্যাম্বুল্যান্স অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এটা কাম্য নয়। প্রধানের কাজের প্রতি মনোযোগ নেই। যে কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।'
যদিও মহিষাদলের বিডিও তাপস মণ্ডল পঞ্চায়েতের কাজে প্রধানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রধান সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করার চেষ্টা করছেন। কিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম। সেগুলো আমি সরেজমিন খতিয়ে দেখেছি। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান, উপ-প্রধান এবং তাঁদের মনোনীত আরও দুই সদস্যকে নিয়ে চারজনের কমিটি গড়ে দিয়েছিলাম। পঞ্চায়েতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের সুবিধা করতে প্রধানের কাজে বাধা দিচ্ছেন। তাঁরা যাই করুন, প্রধানের কাজে স্বচ্ছতা রয়েছে।'