দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের থানা পুকুরপাড় এলাকা থেকে মো. মনির হোসেন (৫৮) নামের ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৩ নম্বর মাছঘাটের জেটি থেকে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুল মাজেদ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন থানা পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৫৮) সোনারগাঁওয়ের পাঁচকানীর কান্দি এলাকার বাসিন্দা। তিনি চাল ও ডাইং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক কাজে ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় সোনারগাঁওয়ের বাসা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন মনির হোসেন। পরে খানপুর থেকে পরিবহনের মাধ্যমে আসা ১০ বস্তা চাল গ্রহণ করে মিশুকযোগে নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেন। এরপর ডাইংসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের রিভারভিউ মার্কেটে যান।
দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে থানা পুকুরপাড় এলাকায় জামালের মশারির দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্ববিরোধের জের ধরে আব্দুল মাজেদসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক তাকে টার্মিনাল ঘাট এলাকার সুরমা হোটেলের ছাদে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়, হোটেলের ছাদে নিয়ে চাপাতি, ছুরি ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দেখিয়ে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নীল রঙের ব্যাগে ৩৫ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা ও ২৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভো মডেলের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। এরপর তার মোবাইল ফোন থেকেই ছেলে ও গ্রামের ছোট ভাইকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
মনির হোসেনের ছোট ভাই জুম্মন তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযুক্তদের একজনসহ আরও দুইজনকে ৫ হাজার টাকা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জোরপূর্বক চারটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্যের সহায়তায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ৩ নম্বর মাছঘাটের জেডি থেকে মনির হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আব্দুল মাজেদকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ আটক আব্দুল মাজেদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া নগদ টাকার মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা, মোবাইল ফোন এবং নীল রঙের ব্যাগ উদ্ধার করে। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ওজন ৩ দশমিক ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মনির হোসেনের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধর, অর্থ দাবি ও আদায় এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশ সময়মতো উদ্ধার করতে না পারলে তাকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারধর ও লুটের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই ঘটনায় আসামির হেফাজত থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ পৃথক মাদক মামলা দায়ের করবে বলে জানা গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
