প্রিয় মানুষটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলেন স্বজনরা। প্রতিটি দিন কেটেছে উৎকণ্ঠায়, প্রতিটি মুহূর্তে ছিল ফিরে আসার অপেক্ষা। হয়তো একদিন দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে আসবেন পরিবারের সেই মানুষটি। কিন্তু প্রায় দুই মাসের অপেক্ষার অবসান হলো এক হৃদয়বিদারক খবরে। জীবিত আবু বক্কর আর ফিরলেন না, এলেন নিথর দেহ হয়ে।
নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর শরীয়তপুরের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কাউনিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর (৬৫) এর মরদেহ। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরের সখিপুর থানার বেড়াচাক্কি এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
স্বজন সূত্রে জানা যায়, এ বছরের গত ৩০ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আবু বক্কর। এরপর থেকেই তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে দুশ্চিন্তা। বুকভরা আশা নিয়ে স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন প্রিয় মানুষটির ফিরে আসার। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো এমন এক সংবাদে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।
নিহতের স্বজনরা আরও জানান, রোববার রাত ১টার দিকে গজারিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে তারা মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। পরে শরীয়তপুরে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাদেরই প্রিয়জন আবু বক্করের। দীর্ঘদিন ধরে যাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় ছিলেন, তাকে শেষ পর্যন্ত মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করতে হবে, এমন বাস্তবতা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
নরসিংহপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নৌপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বজনদের ধারণা, মরদেহ শনাক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই আবু বক্করের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত সময় ও কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
