পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিনে বড় দরপতন
শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ অবকাশ শেষে দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার বেশিরভাগ সিকিউরিটিজের মূল্যহ্রাসের সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ। এর ফলে ছুটি পরবর্তী লেনদেনের উভয় কর্মদিবসেই বড় ধরনের অবনমনের মুখে পড়ল শেয়ারবাজার।
এর আগে গত ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার কারণে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত ছিল। বিরতি শেষে রবিবার বাজার সচল হলে বড় দরপতনের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের ইতিবাচক প্রবণতায় প্রধান সূচক বড় ধস থেকে রক্ষা পায়। তবে সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে তীব্র বিক্রয়চাপ দেখা দেয়। সকাল থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমতে থাকায় মূল্যসূচক দ্রুত নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং দিনের শেষভাগে দরপতনের মাত্রা আরও ঘনীভূত হয়।
দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৭৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৫২টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের বাজারদর। লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো বা ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতনের প্রভাব ছিল স্পষ্ট; ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩১টির দাম বাড়লেও দর কমেছে ১৩৯টির। মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৫২টির দাম কমেছে। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়ে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৬০টির কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে মাত্র দুটির দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ১৮টি ফান্ড।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাছাই করা শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে এবং ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৭ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের অংকও নেমে এসেছে ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকায়, যা পূর্ববর্তী কার্যদিবসের ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার তুলনায় ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম।
ডিএসইতে একক লেনদেনে আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষে উঠে এসেছে প্রাইম ব্যাংক, যার মোট ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ১৮ কোটি ৩ লাখ টাকার লেনদেন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক এবং ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল সায়হাম টেক্সটাইল। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় সিটি ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মতিন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং মালেক স্পিনিং।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন হয়েছে। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টির দাম বাড়লেও কমেছে ৯৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দর। তবে সূচকের অবনমন ঘটলেও বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
