বিভিন্ন দলের নেতাদের নিন্দা, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে তাঁরা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বামপন্থিদের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জোটের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ অন্য নেতারা অংশ নেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, হামলার সময় সিপিবির কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের লোকজনের সঙ্গে সিপিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সিপিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার রাত ১০টায় লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ‘উগ্র ও উশৃঙ্খল’ ব্যক্তি নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তি ভবনের সামনে জড়ো হন। তাঁরা সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন দাবি করে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সিপিবির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা সহিংসতা শুরু করেন। তাঁদের হামলায় কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সেটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় কথিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের তাঁদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সিপিবি কার্যালয়ে হামলাসহ এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান: সিপিবি কার্যালয়ে হামলা ও ‘মবের ঘটনার’ প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, “নির্বাচিত সরকারের আমলে এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যাবে না।”
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত ও ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক বিরোধের জবাব হামলা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে দেওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে।
একটি স্বাধীন দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সাইফুল হক।
‘জয় বাংলা’ মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্লোগান: পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা এবং সিপিবি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে তাঁরা বলেন, “রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভিন্নমতের ওপর সহিংসতা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিপন্থি।”
জেএসডির শীর্ষ দুই নেতার ভাষ্য, ‘জয় বাংলা’ কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্লোগান। এই স্লোগানকে দলীয় আধিপত্যের হাতিয়ার করা কিংবা এর সূত্র ধরে সহিংসতায় জড়ানো মুক্তিযুদ্ধের সর্বজনীন চেতনার পরিপন্থি।
একই ঘটনায় যৌথ বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬
