ভিক্ষা নয়, স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখালেন যুবদল নেতা সোহেল রানা খান
মানুষের কাছে হাত পেতে নয়, নিজের শ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালাতে চান শেরপুরের আব্দুর রহিম। তাঁর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ওজন মাপার মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁকে নতুন একটি মেশিন উপহার দিয়েছেন জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা খান। তাঁর এ উদ্যোগে পাঁচ কন্যাসন্তান নিয়ে চলা পরিবারটির জীবিকা নির্বাহের পথ আবারও সচল হলো।
জানা গেছে, শেরপুর জেলার জেলখানা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই ব্যক্তি পাঁচ কন্যাসন্তানসহ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পানাউল্লাহ ছাত্রাবাসের সামনে ওজন মাপার মেশিন দিয়ে মানুষের ওজন পরিমাপ করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত তাঁর সংসার। মানুষের কাছে ভিক্ষা না করে নিজের শ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
কিন্তু কয়েক দিন আগে তাঁর আয়ের একমাত্র অবলম্বন ওজন মাপার মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর উপার্জন। চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবারটি।
বিষয়টি জানতে পেরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের নেতা সোরোয়ার জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা খানকে জানান। খবর পেয়ে আব্দুর রহিমের পাশে দাঁড়ান সোহেল রানা খান। পরে তাঁর হাতে নতুন একটি ওজন মাপার মেশিন তুলে দেন। এতে আবারও নিজের শ্রমে আয় করে সংসার চালানোর সুযোগ পেলেন আব্দুর রহিম।
এ বিষয়ে সোহেল রানা খান বলেন, “এই মানবিক উদ্যোগ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কাউকে ভিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে কাজের সুযোগ করে দেওয়া গেলে তিনি নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবারকে এগিয়ে নিতে পারবেন। এটি নবীজির সুন্নাহর শিক্ষারও প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ যে এলাকারই হোক না কেন, বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা মানে একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হতে পারবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করে সোহেল রানা খান বলেন, আগামীর সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদল নেতা সোরোয়ারসহ যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
