অনলাইন ডেস্ক
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর জন্য। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে একটি ‘নতুন ব্যবস্থা’ কার্যকর করতে ইরান সামরিক প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে। এর মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে একটি খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়, যেখানে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ফি ইরানের নিজস্ব মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পরিকল্পনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এ ক্ষেত্রে ওমান–এর সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে একাধিকবার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান সাড়া না দিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতায় না এলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
