অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ও খুলনা সুন্দরবনের সাতক্ষীরার শ্যামনগর অংশে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। পরে ডাকাত দল গহিন বনে পালিয়ে গেলে তাদের কবল থেকে জিম্মি থাকা পাঁচজন জেলেকে উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে বনদস্য ‘দাদা ভাই বাহিনী’।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি অতর্কিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাত দল জিম্মি জেলেদের ফেলে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বনদস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সাথে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করা হয় পাঁচজন জেলেকে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা থানার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
খুলনা গেজেট/এনএম
