জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও কুমিল্লার সঙ্গে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত অধ্যায় তুলে ধরতে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নজরুলবিষয়ক সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেছেন প্রত্নতত্ত্বসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী পৃথক দুটি পর্বে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মতে, কুমিল্লার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ইতিহাসে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম।
‘নজরুলবর্ষ’ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় ‘কাজী নজরুল ইসলামের গানে প্রতিফলিত জীবনদর্শন’ শীর্ষক সেমিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মমিনুল ইসলাম।
প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন নজরুল ইনস্টিটিউট কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-আমিন, মাছরাঙা টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের সাংবাদিক ও গবেষক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল এবং লেখক ও নজরুল গবেষক পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য।
আলোচনায় মো. আল-আমিন কুমিল্লায় কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের কথা তুলে ধরেন। পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, কবি নজরুলের প্রত্নতত্ত্বের প্রতি আগ্রহ এবং কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার প্রভাব তাঁর রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
সাংবাদিক ও গবেষক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, নজরুলের ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্মে কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আলোচনায় কুমিল্লার প্রেক্ষাপটকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেত। এ সময় তিনি ঐতিহ্য কুমিল্লা প্রকাশিত ‘দৌলতপুরে নজরুল’ গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন রজওয়ানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘দৌলতপুরে নজরুল’ শীর্ষক এ আয়োজনে জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে নজরুলের কালজয়ী গান পরিবেশন করেন আঞ্চলিক পরিচালক ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী আফরোজা খান মিতা। এ ছাড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কবির বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি করেন।
আফরোজা খান মিতা জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামকরণে ঐতিহ্য কুমিল্লা প্রকাশিত ‘দৌলতপুরে নজরুল’ গ্রন্থটি বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। গ্রন্থটির সম্পাদক ও ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল নামকরণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক জয়াশিস বণিক, কবি ও গবেষক এফ. এইচ. জারদিস, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন সাইয়্যেরা সোহা, ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. শাহীন আলমসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও গবেষণা সহকারীরা।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও কুমিল্লার সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা।
The post কুমিল্লায় প্রথমবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে নজরুলবিষয়ক সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান appeared first on ভোরের চেতনা.
